জাতীয় সংসদের দুজন এমপির পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। ঐ দুজন হলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির এমপি হারুন-অর রশীদ। তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে সংসদীয় আসন কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে আইনসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ঐ দুই এমপিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
শুল্ক ফাঁকির মামলায় এমপি হারুনের পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। অন্যদিকে পাপুল তার নির্বাচনি হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দাখিল করেন। এমতাবস্থায় তাদের এমপি পদে থাকা নিয়ে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দাখিল করা হয়।
এমপি হারুনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ রিট দাখিল করেন ঐ আসনের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ। রিটে বলা হয়, ২০০৫ সালে এমপি থাকাবস্থায় শুল্কমুক্ত কোটায় গাড়ি এনে তা বিক্রির অভিযোগে দুদকের মামলায় ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর এমপি হারুনকে পাঁচ বছরের দণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ আদালত-৪। দণ্ডিত হওয়ায় সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আর এমপি পদে থাকার সুযোগ নাই। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পর সেই রায়ের অনুলিপি সংসদ সচিবালয়ের সচিব বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় লিগ্যাল নোটিশ দিই। নোটিশের জবাব না পেয়ে এ রিট করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘শুনানিতে আমাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রুলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার কার্যক্রম কেন অবৈধ হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এমপি হারুন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ ঐ জামিন বহাল রাখে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন হারুন।
এদিকে মানব পাচার, অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগে কুয়েতের কারাগারে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, পাপুল জালিয়াতি করে ভুয়া শিক্ষাগত সনদও জোগাড় করেছেন। তিনি সিয়েরা লিওনের মিলটন মরগাই কলেজ অব এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনমিকস বিষয়ে স্নাতক সনদ সংগ্রহ করেছেন। শিক্ষাবর্ষ ১৯৮৭। ঐ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, পাপুল যে বিষয়ের ওপর স্নাতক সনদ জোগাড় করেছেন, কলেজটিতে ঐ বিষয়ের ওপর কোনো ডিপার্টমেন্ট নেই। নির্বাচনি হলফনামায় এই মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফয়েজ ভুঁইয়া। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী শেখ আওসাফুর রহমান ও মো. সালাহ উদ্দিন শুনানি করেন। শুনানিতে হাইকোর্ট পাপলুকে এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করে তার আসন কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।
আইনজীবী সালাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচনি হলফনামায় তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ১২(সি)-এর লঙ্ঘন। সেজন্য তিনি আর এমপি পদে থাকতে পারেন না।