জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে নিজেরাই হলেন লাশ

শেরপুরের নালিতাবাড়িতে এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে মাইক্রোবাসে করে রওনা দিয়েছিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার ১৪ জন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই মাইক্রোবাসটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার পাশে পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নারী ও শিশুসহ আট জন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের ফুলপুর উপজেলার বাশাটি নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই এক শিশু, পাঁচ জন নারী ও দুই জন পুরুষ নিহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় পাঁচ জনকে উদ্ধার করে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এক জন নিখোঁজ রয়েছেন।

হতাহতরা সবাই নিকটাত্মীয় এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, ভালুকা ও তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তারা শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার বারোমারিতে হাসান আলী নামে তাদের এক আত্মীয়ের জানাজায় শরিক হওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর ৫টার দিকে ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া গ্রাম থেকে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু  সকাল পৌনে আটটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বাশাটি গ্রামে মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, খবর পেয়ে ফুলপুর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে। মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আট জন নিহত হন। মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ ১৫ জন যাত্রী ছিল। ঘটনার পর চালক পলাতক রয়েছেন।

নিহতরা হলেন—গফরগাঁও উপজেলার আঠারোদানা গ্রামের এলাহি বক্সের স্ত্রী রেজিয়া খাতুন (৭০), একই গ্রামের রতন মিয়ার মেয়ে রিপা আক্তার (২৫), মশাখালী গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী পারুল বেগম (৪৫) ও মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে শামসুল হক (৫৫), ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী বেগম (৩০), তারাকান্দা উপজেলার দাদরা গ্রামের নবী হোসেন (৩০), ভালুকা উপজেলার শাহজাহানের শিশু কন্যা বুলবুলি (৫) ও সামমুন শেখের স্ত্রী মিলন (৬০)।

আঠারোদানা গ্রামে রতনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। আত্মীয়স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশীদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে ।

মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারকৃতরা হলেন—গফরগাঁওয়ের আঠারোদানা গ্রামের এলাহি বক্সের ছেলে রতন মিয়া (৫৩), মশাখালী গ্রামের মৃত উসমানের ছেলে হাবি (৫৫), ভালুকা উপজেলার কাইচান গ্রামের মিলনের ছেলে মিজান (২৮) ও রাজৈ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সোহরাব (২৮)। তাদেরকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেওয়া হয়।