সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, দেশের এমন কঠিন সময়ে যখনই মানুষ নেতৃত্ব, সান্ত্বনা বা কিছুটা স্থিতিশীলতার জন্য হোয়াইট হাউজের দিকে তাকিয়েছেন, এ সবের বদলে ভাগ্যে জুটেছে শুধু অরাজকতা, বিভাজন এবং সহানুভূতির চরম অভাব। মিশেল বলেন, ট্রাম্প দেশের জন্য ভুল প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত দেশটির ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধে মিশেল ওবামা এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল সম্মেলনে সবাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন। তারা দলের মধ্যে ঐক্যের ডাক দেন এবং কাজ করার আহ্বান জানান। খবর ডয়চেভেলে ও আলজাজিরার
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। উইসকনসিন রাজ্যের মিলওয়াকি শহরে সোমবার চার দিনের জাতীয় কনভেনশনের প্রথম দিনে প্রেসিডেন্টপ্রার্থী জো বাইডেনকে দেশের আগামী শীর্ষ নেতা হিসেবে তুলে ধরেন একের পর এক বক্তা। তাদের স্পষ্ট বার্তা, ট্রাম্প নয়, বাইডেনই দেশকে করোনা মহামারি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, বর্তমান করোনা সংকটের কারণে প্রায় পুরোপুরি অনলাইন পদ্ধতিতে চলছে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলন।
মিশেল সতর্ক করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পরিবর্তন না এলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। বর্তমান অরাজকতা বন্ধ করতে হলে আমাদের জো বাইডেনকে ভোট দিতে হবে। মনে করতে হবে, এই সিদ্ধান্তের ওপর আমাদের জীবন নির্ভর করছে। দলীয় সম্মেলনের প্রথম দিনে মিশেল ওবামা ছাড়াও দলের একাধিক সমর্থক বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নানা সম্প্রদায়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি। আমেরিকার সমাজে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে চাইছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। সব বক্তাই ট্রাম্পের ব্যর্থতা ও বিভাজনের নীতির সমালোচনা করেন।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রিউ কুওমো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিক বিভাজন সৃষ্টি করেননি, বিভাজনই ট্রাম্পকে সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প শুধু সেই বিভাজন আরো তীব্র করে তুলেছেন। বাইডেনকে ঘিরে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে দলীয় সম্মেলনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের কয়েক জন বিশিষ্ট বক্তাও উপস্থিত থাকছেন। তাদের মধ্যে নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস্টিন টড উইটম্যান ও ওহায়ো রাজ্যের সাবেক গভর্নর জন ক্যাসিচও রয়েছেন ।
ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট এবং কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হবে। তবে করোনা সংকটের কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন না। ডেলাওয়ার রাজ্য থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাইডেন মনোনয়ন গ্রহণ করবেন। ট্রাম্পও এমন আক্রমণের মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই। তিনি বাইডেনকে ‘সমাজতন্ত্রের ট্রোজান ঘোড়া’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দেশ ও সভ্যতার সুরক্ষায় তিনি লড়াই করবেন।