দেশে টানা ১১ দিন পর আবার করোনা ভাইরাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের ওপরে এসেছে। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩০৬ জন। এর পর টানা ১১ দিন দৈনিক রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজারের নিচেই ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হন ৩ হাজার ২০০ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৪ জন। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪০ জনে দাঁড়াল। আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ৩ হাজার ২৩৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮২৫ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা আড়াই লাখ পেরিয়ে যায় গত ৭ আগস্ট। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১২ আগস্ট সেই সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৪ জন হাসপাতালে এবং দুই জন বাড়িতে মারা গেছেন। এদের মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সি এক জন, ২০ বছরের বেশি বয়সি এক জন, ত্রিশোর্ধ্ব তিন জন, চল্লিশোর্ধ্ব দুই জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৭ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ২২ জন ছিলেন। ঢাকা বিভাগের ছিলেন ২৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জন, রাজশাহী বিভাগের চার জন, খুলনা বিভাগের সাত জন, বরিশাল বিভাগের দুই জন, রংপুর বিভাগের তিন জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ছিলেন এক জন। এ পর্যন্ত করোনায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৯৫৩ জন (৭৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ) এবং নারী ৭৮৭ জন (২১ দশমিক ০৪ শতাংশ)।