সালমান খানকে হত্যার ছক কষেছিল সে। মামলার প্রতিশোধ নিতেই হত্যার ষড়যন্ত্র। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি হত্যা মামলায় ফরিদাবাদ পুলিশের হাতে ধরা পড়ল সে। তখনই স্বীকার করল সালমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা।
বেশ আটঘাঁট বেঁধেই সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল সে। সেজন্য জানুয়ারিতে বান্দ্রায় সালমানের বাড়ির আশপাশে ঘুরে এসেছে। ওই এলাকায় টানা দু’দিন থেকে রেকি করেছে। সালমান কখন কোথায় যান? সাথে কে থাকেন? সব খেয়াল করেছে। কিন্তু করোনার কারণেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে দেরি হয়ে গেল। ষড়যন্ত্রকারীকে জেরা করে জানিয়েছেন ডিসিপি রাজেশ দুগ্গল।
কিন্তু হঠাৎ কেন সালমানকে হত্যার ছক কষেছিল ২৭ বছরের দুষ্কৃতী? এর নেপথ্যে রয়েছে অতীতের এক হত্যা। ষড়যন্ত্রকারীর নাম রাহুল ওরফে সাঙ্গা ওরফে বাবা ওরফে সুন্নি। সে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সদস্য। তার নির্দেশেই সালমানকে হত্যার ছক কষেছিল রাহুল। গিয়েছিল মু্ম্বাই। লরেন্স বিষ্ণোই এখন রাজস্থানের জেলে।
এই বিষ্ণোইরা কৃষ্ণসার হরিণ পুজো করে। ১৯৯৮ সালে যোধপুরে ছবির শুটিংয়ে গিয়ে দু’টি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন সালমান। সেই থেকে বিষ্ণোইদের রাগ সালমানের ওপর। এর আগে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আর এক সদস্য সম্পত নেহরাও একইভাবে বান্দ্রায় গিয়ে সালমানের হালহকিকৎ পরিদর্শন করেন। নেহরা ছিল লরেন্সের ডান হাত। ২০১৮ সালে জুনে গ্রেপ্তার হয়। তার আগে মুম্বাই গিয়ে সালমানের ওপর নজর রেখেছিল সে।
নেহরার গ্রেপ্তারের পর সালমানকে হত্যার ভার পড়ে রাহুলের ওপর। সে এই গ্যাংয়ে নতুন যোগ দিয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ফরিদাবাদের ইএসআইসি হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করত রাহুল। বেআইনি অস্ত্র রাখার জন্য ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার হয় সে। ২০১৯ সালে জামিনে ছাড়া পেয়ে বিষ্ণোই গ্যাংয়ে যোগ দেয়।
২৪ জুন ফরিদাবাদের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে রাহুল। তার ধারণা, এই প্রবীণই তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই হত্যার সূত্রেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদাবাদ পুলিশ। গত ছ’মাসে সে মোট চারটি হত্যা করেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে দু’টি গাড়ি ছিনতাই করেছে। এবার পুলিশি জেরার মুখে পড়ে স্বীকার করে নিল সালমান হত্যার ছক। আপাতত নিজেদের হেপাজতে রেখে আরো জেরা করবে ফরিদাবাদ পুলিশ। সূত্র : আজকাল।
ইত্তেফাক/বিএএফ