চলনবিল এলাকায় জমে উঠেছে খৈলশুনি বিক্রির হাট

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

চাটমোহরসহ চলনবিল এলাকায় মাছ ধরার অন্যতম উপকরণ খৈলশুনি বা চাঁই বিক্রির হাটগুলো জমে উঠেছে। চাটমোহরের সর্ববৃহত্ অমৃতকুণ্ডা হাট (রেলবাজার হাট) ঘুরে রবিবার দেখা যায়, করোনার প্রভাবে হাটে লোকসমাগম কম হলেও কেনাবেচা বেশ ভালোই চলছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ হাটে খৈলশুনি কেনাবেচা হয়। এছাড়া তাড়াশ উপজেলার নওগাঁহাট, গুল্টাহাট, রায়গঞ্জের নিমগাছীর হাট, সলঙ্গাহাট, চাটমোহরের ছাইকোলা হাট, মির্জাপুর হাট, নাটোরের গুরুদাসপুর হাট, চাচকৈড় হাটসহ চলনবিল অঞ্চলের অন্যান্য হাটেও খৈলশুনি পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা হয়।

বর্ষায় খেতে কাজ না থাকায় চলনবিল অঞ্চলের অভাবী হাজার হাজার মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য মাছ ধরার কাজে সম্পৃক্ত হন। তাই বর্ষায় খৈলশুনির কদরও বেড়ে যায়। মাছ ধরার এ উপকরণ তৈরির কাজ সারা বছর চললেও প্রতি বছর এ সময় খৈলশুনি তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। চাটমোহরের ধরইল মত্স্যজীবী পাড়ার রফিক জানান, খৈলশুনি তৈরি তার পৈত্রিক পেশা। স্ত্রী ও দুই সন্তানের সহায়তায় সপ্তাহে তিনি ছয়-সাতটি খৈলশুনি তৈরি করতে পারেন। তার পাড়ার ৪০০ পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩৫০ পরিবার এ পেশায় সম্পৃক্ত। আকার ভেদে ৪০০ থেকে ২ হাজার টাকা জোড়া পর্যন্ত বিক্রি হয় খৈলশুনি। প্রতি জোড়ায় তাদের ১০০ টাকার মতো লাভ থাকে। বড়াইগ্রামের রানীর হাটের শহিদুল ইসলাম (৪৭) জানান, প্রথমে বাঁশ চিরে খিল তোলা হয়। সেগুলো শুকিয়ে নেওয়া হয় হালকা রোদে। পচানো তালের ডাগুরের আঁশ দিয়ে বাঁশের খিল বান দেওয়া হয়। এসব কাজে গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুলকলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরাও পরিবারকে সহায়তা করে থাকে। চলনবিলাঞ্চলের ধারাবারিষা, উদবাড়িয়া, সিথুলী, তালবাড়িয়া, সিরামপুর, দারিকুশি, চণ্ডীপুর, সোনাবাজুসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন দিন-রাত চলছে খৈলশুনি তৈরির কাজ। দাড়িকুশী গ্রামের আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি, আমার স্ত্রী ও ছেলে বাড়ির এ তিন জন খৈলশুনি তৈরি করি। সপ্তাহে ১০-১২টি খৈলশুনি তৈরি করতে পারি। পাবনার বিভিন্ন এলাকাসহ সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ঢাকার ব্যাপারীরা কিনে নিয়ে যান এগুলো।’