কৌলীন্যের এক ধাপ দূরে পিএসজি

স্পোর্টস ডেস্ক

কাতারি মালিকেরা পিএসজির মালিকানা নেওয়ার পর থেকেই দলটির লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় কুলীন প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। সেই লক্ষ্যে টানা সাতবার পা হড়কানোর পর অবশেষে এসে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার এক ধাপ দূরত্বে পৌঁছেছে দলটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে আরবি লিপজিগকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে নেইমারদের দল।

দলে নেইমার, আনহেল ডি মারিয়াদের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিজ্ঞরা ছিলেন, ছিলেন কিলিয়ান এমবাপেদের মতো বিশ্বকাপ বিজয়ীরাও। তবু চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের দুর্ভাগ্য আর প্রতিপক্ষ লিপজিগের দলীয় নৈপুণ্য চোখ রাঙানি দিচ্ছিল দলটিকে।

লিসবনে মঙ্গলবার রাতে সেই চোখ রাঙানি উবে যেতে সময় নিল মোটে ১৩ মিনিট। ডি মারিয়ার ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে পিএসজিকে এগিয়ে দেন মারকিনিয়োস। তার আগে গোটা তিনেক ৫০-৫০ সুযোগ অবশ্য পূর্ব জার্মানির দলটি পেয়েছিল।

তবে গোলের পরই লিপজিগ কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের স্বভাবজাত নিচে থেকে খেলা গুছিয়ে ওপরে ওঠার কৌশল মার খায় পিএসজির চাপের কাছে। তা থেকেই এলো দ্বিতীয় গোলটা। বিরতির একটু আগে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে জোর করে করানো ভুলে বল পেলেন নেইমার, বাড়ালেন মাঝে থাকা ডি মারিয়ার দিকে। আলতো ছোঁয়ায় গোলরক্ষক গুলাশিকে বোকা বানিয়ে ব্যবধান বাড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এখানেই দুমড়েমুচড়ে যায় লিপজিগের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন, যা ম্যাচ শেষে অকপটে স্বীকারও করেছিলেন জার্মান দলটির কোচ।

পিএসজির তৃতীয় গোলেও ছোঁয়া ছিল ডি মারিয়ার। ৫৬ মিনিটে তার ক্রসে হেড করেই লিপজিগের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন হুয়ান বের্নাত।

ম্যাচের বাকিটা সময় চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তায় রক্ষণ সামলে পিএসজি প্রতি-আক্রমণে ত্রাস ছড়িয়েছে প্রতিপক্ষ রক্ষণে। তাতে ৩-০ জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি।

প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে উচ্ছ্বসিত কোচ থমাস টুখেল বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল খেলার গতিটা নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর ডি মারিয়া, নেইমার ও এমবাপের গতি ব্যবহার করা। এটা বড় খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্ট, তাদের স্বচ্ছন্দে খেলতে দিতে হবে আমাদের। প্রতিপক্ষের জন্য খুব বেশি পরিবর্তন করা উচিত নয় আমাদের, নিজেদের শক্তিতে মনোযোগী হতে হবে এখানে। দলটা নিজেদের ক্ষুধা আর একসঙ্গে লড়াইয়ের মানসিকতাটা দেখিয়েছে।’

এদিকে টুখেলের কৌশলে পরাস্ত হওয়ার পর জুলিয়ান নাগেলসমান প্রশংসা করলেন প্রতিপক্ষের, ‘তারা শ্রেয়তর দল ছিল। আর ফাইনালের টিকিটটা যোগ্য দল হিসেবেই পেয়েছে পিএসজি।’

এদিকে কিলিয়ান এমবাপে জানালেন, দুই বছর আগে বিশ্বকাপের আবহটাও ফিরে পাচ্ছেন তিনি! বললেন, ‘সে আবহটা যেন ফিরে ফিরে আসছে। আমরা একটা দল বানাতে সফল হয়েছি, যারা নিজেদের গুরুত্বটা বোঝে আর নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে।’

সদ্য পিএসজি ছাড়া থমাস মুনিয়ের পিএসজির ‘পার্টি-সংস্কৃতি’ নিয়ে ধুয়ে দিয়েছিলেন দলকে। এমবাপে সেটাকেই দেখছেন দারুণ গুরুত্ব দিয়ে, ‘আমরা খেলার বাইরেও অনেক কিছু করি, কারো কারো কাছে এটা বেশি বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু এভাবেই শিরোপার সোপান গড়ি আমরা।’ তার প্রমাণ এবার দিচ্ছে পিএসজি!