স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনাকালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দেখে চেনাই কঠিন। শুকিয়ে গেছেন অনেক। লিকলিকে একটা গড়ন তৈরি হয়ে গেছে বললে ভুল হবে না। ফিটনেস নিয়ে ৩৪ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট তার শরীরী অবয়বে। ঈদুল আজহার পর থেকে মিরপুরে অনুশীলনে সরব তিনি। গতকালও রানিং সেশনের পর ব্যাটিং করেন তিনি।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। খেলবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হতে পারে দলগত অনুশীলন। তার আগে ঘোষণা হবে ২০-২২ জনের দল। হোম অব ক্রিকেটে অস্ফুট স্বরে গুঞ্জন, শ্রীলঙ্কাগামী দলে মাহমুদউল্লাহর জায়গা হবে কি? করোনার কারণে স্কোয়াড় বড়ো হচ্ছে। তারপরও সেখানে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের জায়গা অনিশ্চিত।
বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট দলে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। হোমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল সাদা পোশাকে রান খরায় থাকা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে তাকে বলা হয়েছিল সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে। অর্থাত্ লাল বলের ক্রিকেটে তার ভবিষ্যত্ খুব উজ্জ্বল নয়। তারপর বলার মতো ক্রিকেট হয়নি বলে পারফরম করে টেস্ট দলে ফেরার দাবিটা জোরালো করার সুযোগ পাননি মাহমুদউল্লাহ। শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট দলে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের ফেরাটা কঠিন।
সাদা পোশাকে শেষ চার ম্যাচের হাড্ডিসার পারফরম্যান্সই তার বিপক্ষে কথা বলছে। চট্টগ্রামে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানদের বিরুদ্ধে ১৪ রান (৭, ৭) করেছেন। ঐ বছর নভেম্বরে ভারতে চার ইনিংসে ৭০ রান করেছেন (১০, ১৫, ৬, ৩৯*)। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ২৫ রান (২৫, ০) করেছেন মাহমুদউল্লাহ। বড় স্কোয়াডের সুযোগে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে গতকাল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘আমরা এখনো স্কোয়াড নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করিনি। হেড কোচ আসলে তার ও অধিনায়কের পরিকল্পনা শুনব। তারা কি চায় জানব। তারপর স্কোয়াড ঠিক হবে।’ গত ফেব্রুয়ারিতে মাহমুদউল্লাহকে বলা হয়েছিল সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে। সূত্র জানায়, নির্বাচকদের সেই অবস্থানে এখনো পরিবর্তন আসেনি। যদিও প্রধান নির্বাচক এখনো মুখ খুলতে নরাজ। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আসলে এখনেঅ দল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই এখনই কিছু বলতে পারছি না।’ শ্রীলঙ্কায় না যেতে পারলে মাহমুদউল্লাহর টেস্ট ক্যারিয়ার বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়বে। চলতি বছরে নেই আর কোনো টেস্ট। শেষ পর্যন্ত ৪৯ টেস্টেই আটকে থাকবে কি না, মাহমুদউল্লাহর টেস্ট ক্যারিয়ার, তা সময়ই বলে দিবে।