সিআইডির হাতে গ্রেফতার নরসিংদীর সিরাজ
বিশেষ প্রতিনিধি
৩০ বছর আগে ‘গলাকাটা’ ভিসায় আমীর নামে কুয়েতে গিয়েছিলেন নরসিংদীর মাধবদী এলাকার বাসিন্দা মীর হোসেন ওরফে সিরাজউদ্দিন। পরে নিজেই মানব পাচারকারী চক্রের হোতা বনে যান। এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও তার খপ্পরে পড়ে ৯০০ ব্যক্তি প্রতারিত হয়েছে। তবে কুয়েতের আদালতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে সিরাজ ও তার দুই সহযোগী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে সোমবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সিআইডি গতকাল তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে সিআইডির অর্গানাইজড বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজিব ফরহান বলেন, গ্রেফতারকৃত মীর হোসেনসহ আরো ২ বাংলাদেশি মানব পাচারকারীকে কুয়েত আদালত তিন বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় । এ অবস্থায় তারা তিন জনই পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। তিনি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পারি—চার জন মানব পাচারকারী দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার করে আসছিল। এ চক্রের সদস্যদের হাতে ৯০০ জনের বেশি ভিকটিম কুয়েতে পাচারের শিকার হয়। জন প্রতি ছয় লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে তারা ভিকটিমদের কুয়েতে পাচার করে। উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েতে পাচারের পর ভিকটিমদের ওপর নেমে আসে দুর্বিষহ জীবন।
অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজিব ফরহান বলেন, সিরাজ উদ্দিন নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি ৩০ বছর আগে গলাকাটা ভিসায় আমীর নামে কুয়েত গিয়েছিলেন। লেখাপড়া না জানা সিরাজ এলাকায় প্রভাবশালী। ফলে অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। তার অপর দুই সহযোগীকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।