শিক্ষানবিশদের প্রতি সদয় হোন

যে কোনো পাবলিক অথবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করে কেউ আইনপেশায় আসতে চাইলে তাকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের সঙ্গে ৬ মাসের শিক্ষানবিশ চুক্তি করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অফিসের ইন্টিমেশন ফরম পূরণ করে সেটা জমা দিতে হয়। এই ৬ মাস পার হলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে শিক্ষানবিশ একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংযুক্ত কার্ড পান। এই রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়ার পরই বার কাউন্সিল প্রদত্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা তিনি অর্জন করেন। কিন্তু তার আগে যেটি করতে হয়—বার কাউন্সিল প্রদত্ত এনরোলমেন্ট ফরমে ঐ রেজিস্ট্রেশন নম্বর যুক্ত করে পাঁচটা সিভিল ও পাঁচটা ক্রিমিনাল মামলা, যা শিক্ষানবিশকালে সিনিয়রের শুনানির সময় সঙ্গে থেকে ডায়েরিতে এন্ট্রি করা হয়, তা ঐ ফরমে উল্লেখ করতে হয়।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষার তিনটি ধাপ রয়েছে—প্রথমে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ তারপর ১০০ নম্বরের রিটেন এবং সর্বশেষ ১০০ নম্বরের ভাইভা পরীক্ষা। দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও এই তিন ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বার কাউন্সিলের তিন-চার বছর সময় লেগে যায়। যার কারণে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করেও গ্রাজুয়েটদের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত নেই। শিক্ষানবিশকালে নেই কোনো ভাতা, নেই সম্মানী। অতএব, কর্তৃপক্ষকে বিনীত আবেদন জানাব— শিক্ষানবিশদের বিড়ম্বনা বিবেচনা করে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

ওসমান গনি

শিক্ষানবিশ আইনজীবী,

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, শেরপুর