পেয়ারা চাষে কৃষক হাসে

চন্দনাইশ উপজেলায় বাংলার আপেল নামে খ্যাত পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেয়ারার ফলন ভালে হওয়ায় বাগানমালিকদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক। আটটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চন্দনাইশ উপজেলাটি পেয়ারার জন্য বিখ্যাত।

উপজেলার কাঞ্চননগর, হাশিমপুর ও ধোপাছড়ির বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড় আর পাহাড়। বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি ঘরের আঙিনা বা পুকুর পাড়ে ছাড়াও পাহাড়ে এক হাজার ৫০০ একর পাহাড়ি ভূমিতে রয়েছে পেয়ারা বাগান। গাছে গাছে ধরেছে প্রচুর পেয়ারা। তাই উপজেলার কাঞ্চননগর, হাশিমপুর রেল স্টেশন, বাগিচাহাট ও দোহাজারীতে প্রতিদিন বসে পেয়ারার হাট। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন সকালে ট্রাক ভর্তি করে পেয়ারা সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বার পেয়ারা বিক্রি করা হয়ে থাকে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়। বাজারে পেয়ারার ভালো দাম পাওয়া বাগাম মালিকদের মাঝে উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ভোরে কাক ডাকার আগেই ছুটে যায় বাগানে পেয়ারা আনতে শ্রমিকরা। চলে প্রতিযোগিতা কার আগে কে বাজারে পেয়ারা নিয়ে বিক্রি করতে পারবে।

বাগান মালিক নূর আহমদ এবং বাচা মিয়া জানান, সু-স্বাদু পেয়ারার জন্য চন্দনাইশ উপজেলার নাম পরিচিত হলেও বাগান মালিকরা তেমন কোনো ধরনের উপকৃত হচ্ছেন না। তারা আরো জানান, প্রচুর পেয়ারা উত্পন্ন হচ্ছে কিন্তু সংরক্ষণের জন্য এখনো কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো হিমাগার না থাকায় পেয়ারা সংরক্ষণ করতে না পারায় বাগানে অনেক পেয়ারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে বাগান মালিকরা লাভবানের পাশাপাশি হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।