চলতি বছর এডিপির বরাদ্দ পাচ্ছে না জেলা পরিষদ

সরকার মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্বভেদে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে। বিভক্তিকরণের এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকল্পের মধ্যে জেলা পরিষদ তৃতীয় শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে জেলা পরিষদ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অধীনে আপাতত কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। তবে উন্নয়ন বাদে এমপিদের নির্বাচনী এলাকাওয়ারি ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকছে। স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ প্রথম শ্রেণিতে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের উন্নয়ন বরাদ্দ পাবে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে নেওয়া প্রকল্পসমূহকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তৃতীয় গ্রেড চিহ্নিত করে এবার জেলা পরিষদকে এডিপির বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হেলাল উদ্দীন ইত্তেফাককে জানান, করোনায় সৃষ্ট    সংকটে রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি ইতিবাচক না হওয়ায় আপতত এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তীকালে জেলা পরিষদগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেট বিভাজন শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তর পৌরসভার জন্য ৪৫০ কোটি, উপজেলা পরিষদের জন্য ৬৫০ কোটি, সিটি করপোরেশনের জন্য ৪০০ কোটি টাকা (থোক) বিভাজন করা হয়েছে। তবে জাতীয় বাজেটে সংরক্ষিত জেলা পরিষদের জন্য এডিপি খাতে ৫০০ কোটি টাকা সংকুলান না হওয়ায় এই খাতে শূন্য বিভাজন রাখা হয়েছে।

সিনিয়র সচিব জানান, বিভাজন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের অনুমোদন চেয়ে অর্থ বিভাগে পত্র দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই উপজেলা পরিষদের প্রাপ্য বরাদ্দ ছাড় করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্তরের বরাদ্দও অর্থ বিভাগের অনমোদন নিয়ে ছাড় করা হবে।

জেলা পরিষদ চলতি অর্থবছরে আদৌ বরাদ্দ পাবে কি না, সেটি অর্থ প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করছে। জেলা পরিষদগুলো স্থানীয় আয়ের টাকা দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে। তবে সেসব প্রকল্প স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, রাস্তাঘাট নির্মাণ পুনর্নির্মাণ সংস্কার, ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প উন্নয়ন, ছোটখাট শিল্প, বিনোদনকেন্দ্র, শিক্ষা সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে জেলা পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় জেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ জায়গায় প্রকল্প গ্রহণে দুর্নীতি-অনিয়মসহ ভুয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রচুর। অভিযোগ অনেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বলা হয় তাদের টাকা না দিলে কোনো প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।

সূত্র জানায়, এবার উপজেলা পরিষদের জন্য দেওয়া এডিপির টাকায় গৃহীত যে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে পরিষদের কোনো নির্মাণ পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে। সাধারণভাবে অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রকৌশলীরা অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর বিষয়ে কোনো জবাবদিহিতার বাইরে থাকেন। এ নিয়ে ইউএনওদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।