পৃথিবীতে মানুষ নানা প্রতিভা নিয়ে জন্মে থাকে। কারো কারো এমন প্রতিভা আছে যা শুনলে যে কেউ বিস্মিত হবে। আচ্ছা তোমাদেরকে যদি বলি তোমরা তোমাদের মাথা পেছনের দিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরাতে পারবে? ঠিক যেমন প্যাঁচা তার মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে নিজের পিঠ চুলকাতে পারে। তোমরা ভাবছ এটা কি কোনোদিন সম্ভব নাকি? আগেই বলেছি, পৃথিবীতে অদ্ভুত সব প্রতিভা নিয়ে মানুষ জন্মেছে। এখন অব্দি পৃথিবীতে অন্তত একজন মানুষ ঠিক এই প্রতিভা নিয়ে জন্মেছেন—যিনি তার মাথা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একদম পেছনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন। মানে তার শরীর তোমার দিকে ঘুরে আছে, কিন্তু মাথা আছে পেছনের দিকে। আর এ কারণেই তাকে বলা হতো হিউম্যান ওল। ওল মানে হলো প্যাঁচা। এই মানুষটির নাম মার্টিন জো লরেলো।
তোমরা হয়তো বর্তমানে বিভিন্ন হরর সিনেমা বা টেলিভিশন সিরিজে ভূতের মাথা ঘুরিয়ে পেছনের দিকে আনাটা দেখে থাকবে। এজন্য হয়তো তোমাদের মনে হয়ে থাকতে পারে, মাথা পেছনের দিকে আনাটা শুধু সিনেমাতে বা ফটোশপের মাধ্যমেই সম্ভব! কিন্তু মার্টিন জো লরেলো সত্যিকার অর্থে নিজেই নিজের মাথা ঘুরিয়ে পেছনের দিকে আনতে পারতেন। এটা তিনি সম্ভব করেছেন এ ধরনের টেলিভিশন সিরিজ বা সিনেমা প্রচার হবার বহু আগেই!
মার্টিন জো লরেলো, জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৫ সালে, জার্মানির নুরেমবার্গে।তিনি জন্মগ্রহণ করার পর দেখা যায় তার স্পাইনাল কর্ড অনেকখানি বাঁকা হয়ে পাকিয়ে (Twisted) রয়েছে। আর এই পাকানো স্পাইনাল কর্ডই তার ঘাড়কে প্রচুর পরিমাণে নমনীয়তা প্রদান করে। এটা বলা হয়ে থাকে যে, যখন তিনি তার মাথা ঘুরিয়ে পেছনের দিকে আনতেন, তখন তার স্পাইনাল কর্ড দেখতে প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?) মতো হয়ে থাকত। তবে জন্মের পর থেকেই তিনি কিন্তু মাথা ঘুরিয়ে পুরোটা পেছনের দিকে আনতে পারতেন না। পুরোপুরি পেছনে আনতে তাকে অনেক পরিশ্রম এবং চর্চা করতে হয়েছে। তার এই অস্বাভাবিকতাকে কাজে লাগানোর জন্য লরেলো প্রায় তিন বছর বিভিন্ন ধরনের চর্চা করে গেছেন। তার মধ্যে কিছু চর্চা ছিল শুধু তার ঘাড়ের মেরুদণ্ডের কিছু হাড়কে স্থানচ্যুত করা, যাতে তিনি তার মাথাটা ঘুরিয়ে সম্পূর্ণ পেছনের দিকে আনতে পারেন! এতে তিনি সফলও হয়েছেন। এই অস্বাভাবিকতাকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন বিভিন্ন সার্কাসে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার মাধ্যমে। তবে কিছুটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মাথা পেছনে থাকা অবস্থায় তিনি মুখ দিয়ে যেকোনো তরল যেমন- পানি, জুস ইত্যাদি পান করতে পারতেন, কিন্তু কোনোভাবেই নিঃশ্বাস নিতে পারতেন না।
তো বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চই এই লেখাটি পড়তে পড়তে বার কয়েক লরেলোর মতো করে নিজের মাথা ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করেছ। কেউ যদি সফল হও তাহলে আমাদের জানাতে ভুলো না।