বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষার শুদ্ধ চর্চা ও মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘিরেই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সৃষ্টি হয়। তারপরও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, জ্ঞান চর্চার পরিচর্যার অভাবে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা খারাপ পথে ধাবিত হতে। তাই দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ অর্থাত্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে ‘শিক্ষাবান্ধব’-এ পরিণত করে শিক্ষার্থীদের মনোবলের জায়গাকে কিভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব তা নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মতামত তুলে ধরেছেন সজীব বণিক
আব্দুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, কুবি
বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার অনেক অপশন রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যতোটা শিখে তারচেয়ে বেশি শেখার সুযোগ পায় ক্যাম্পাসে অর্থাত্ শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে একাডেমিক আওয়ারই যথেষ্ট নয়। তবে ক্যাম্পাসকে শিক্ষাবান্ধব করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ একটা বড় বিষয়। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুস্থ পরিবেশ সুনিশ্চিত করা। তাছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে, কেউবা মাদকাসক্তে। এসব বিপথে যাওয়া শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কুফল সম্পর্কে বুঝাতে হবে এবং শিক্ষকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত কাউন্সিল করে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে হবে। যাতে নীতি ও মন, মেধা, মননশীলতার জায়গা থেকে নিজেদের জীবনকে উপলব্ধি করতে পারে।
সিমু দে
সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুবি
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সৃষ্টির আদর্শ স্থান। মূলত ক্যাম্পাস ঘিরেই শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন ভাবনার সৃষ্টি হয়। তাই ক্যাম্পাসকে শিক্ষাবান্ধব করতে হলে অবশ্যই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি সেমিনারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাছাড়াও ক্লাসে শিক্ষকদের অবশ্যই আপডেট হতে হবে। মূলত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের দ্বারাই বেশি প্রভাবিত হয়। তাই শিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আচরণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব করতে বেশ কার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক মানে শিক্ষার্থীদের মেন্টর। তাই নিয়মগতভাবেই শিক্ষার্থীদের উপরে শিক্ষকদের অনেক দায়িত্ব বর্তায়। বলা যায়, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঝে মাঝে বসতে হবে, মনের ভাব বুঝতে হবে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদেরকে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারলে যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায় তারা এগিয়ে যাবার সাহস পাবে।
কাজী ওমর সিদ্দিকী
সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ, কুবি
বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু সিলেবাসভিত্তিক পড়াশুনা কাম্য নয়। সিলেবাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সৃষ্টি হবার অনেক পথ রয়েছে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মনকে গতিশীল করে থাকে। তাই ক্যাম্পাস শিক্ষাবান্ধবে অবশ্যই শিক্ষকদের ক্লাসের বাইরেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক জোরদার করতে হবে, উভয়কে জ্ঞান মননে গবেষণামুখী হতে হবে। ফলে ক্যাম্পাসে জ্ঞানের সৃষ্টি হবে, শিক্ষার্থীদের চিন্তা-ভাবনা প্রসারিত হবে এবং ক্যাম্পাস হয়ে উঠবে শিক্ষাবান্ধব।
স্বর্ণা মজুমদার
প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগ, কুবি
শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিচর্যা, মেধা, প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তাই ‘শিক্ষাবান্ধব’ ক্যাম্পাসের বিকল্প নেই। যেখানে শুধু কেবল শিক্ষার্থীরাই নয় শিক্ষকেরাও আরো জ্ঞানচর্চায় গতিশীল থাকবে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে যেমন: ডিবেটিং সোসাইটি, থিয়েটার, অনুপ্রাস, প্রতিবর্তন, রক্তদান কর্মসূচি, সাংবাদিকতাসহ অনেক যা মেধা-মননে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে শিক্ষাবান্ধব করার ক্ষেত্রে অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরী, স্বতন্ত্র আড্ডার ব্যবস্থা, অবকাঠামোগতভাবে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন ভাবনায় নিজেদের তৈরি করতে পারে। মূলত এসব সুযোগ-সুবিধা শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত করতে পারলে তারা যেকোনো অপশন ধরে জ্ঞানচর্চা করার সুযোগ পায় এবং নিজেদের মেধাবৃত্তি আবিষ্কার করতে পারে।