সাত বছর পর ফাইনালে বায়ার্ন

১০ বছর আগে বায়ার্ন মিউনিখ আর লিওঁ যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল, সেবার বিজয়ীর হাসিটা হেসেছিল বায়ার্নই। ১০ বছর পর গত বুধবার রাতে আবারও মুখোমুখি দুই দল, মঞ্চটাও সেই সেমিফাইনালই। এবারও চিত্রনাট্যটা বদলাল না একটুও। লিওঁকে ৩-০ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়ে সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে গেছে ব্যাভারিয়ানরা। আগামী রবিবার রাতে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নেইমারের পিএসজি।

বায়ার্নের জয়টা অনায়াসে হলেও, শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল লিওঁই। শুরুর ১৫ মিনিটে অধিনায়ক মেমফিস ডিপে সুযোগ নষ্ট না করলে আর তোকো একাম্বির শট পোস্টে না লাগলে হয়তো গল্পটা অন্য রকমও হতে পারত ফরাসি দলটির।

১৮ মিনিটে অনেকটা ধারার বিপরীতেই উইঙ্গার সের্জ গেনাব্রির দুর্দান্ত এক গোল এগিয়ে দেয় বায়ার্নকে। এরপরই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে বায়ার্ন। ৩৩ মিনিটে গেনাব্রির দ্বিতীয় গোলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় লিওঁকে। ৮৮ মিনিটে ফরাসি প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি।

৩-০ ব্যবধানের জয় ২০১২-১৩ মৌসুমের পর আবারও চ্যামিপয়ন্স লিগ ফাইনালে তুলে দেয় বায়ার্নকে। কাকতালীয়ভাবে সেবারও ঘরোয়া দুই শিরোপা জিতে ট্রেবলের দুয়ারে ছিল দলটি, আছে এবারও। এমন হাতছানির সামনে থেকে গেনাব্রি জানালেন, শিরোপা জয় করেই ক্ষান্ত হবে তার দল।

জার্মান ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, ‘শুরুতে কিছুটা ভাগ্যবানই ছিলাম আমরা। নয়্যার একটা দারুণ শট ঠেকাল, একটা শট পোস্টে আঘাত করল। তারপর সৌভাগ্যবসত প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে গেলাম আমরা। শেষে রবার্ট গোল করে ম্যাচের অনিশ্চয়তা শেষ করে দেয়! এখন আমাদের লক্ষ্য শিরোপা জয়।’ এদিকে লিওঁ পুড়ছে শুরুতে দুটো সুযোগ হারানোর অনন্ত আক্ষেপে। দলটির ফরোয়ার্ড তোকো একাম্বির কথা, ‘আমরা ভাবছি আমরা আরো ভালো করতে পারতাম আর তাদের গোলটার আগেই হয়তো গোল করে ফেলতে পারতাম! ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না। আমরা আমাদের সুযোগ হারিয়েছি আর দারুণ একটা দলের বিপক্ষে খেলছিলাম। আমরা আবিষ্কার করেছি, তারা অপরাজেয়!’

সংখ্যায় সংখ্যায়

বায়ার্ন-লিও

                ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো জার্মান-ফ্রেঞ্চ ফাইনাল হতে আগামী ২৩ আগস্ট। প্রথমবারেও জড়িয়ে আছে বায়ার্নের নাম। ১৯৭৬ সালে সেঁত এতিয়েঁকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল ব্যাভারিয়ানরা।

                চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচ জিতে কোনো দলের ফাইনালে আসার কৃতিত্বও দ্বিতীয়বারের মতো দেখল ইউরোপ। তবে এ ইতিহাসটা মোটেও আশা দেখাচ্ছে না বায়ার্নকে, সেবার সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে খেলা এসি মিলান হেরেছিল এক ‘ফরাসি’ দলের কাছেই (মার্শেই)।

টানা নয় ম্যাচে গোল পেলেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। টানা গোলের রেকর্ডটা অবশ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর (১১)।

                চলতি আসরে গেনাব্রির গোলসংখ্যা, জার্মান ফরোয়ার্ড হিসেবে যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে আছেন মারিও গোমেজ (১২)।

                ২০১৯-২০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লেভান্ডোভস্কির গোল ১৫টি। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলে ছাড়িয়ে যাবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এক মৌসুমে ১৭ গোলের কীর্তিও।

                শেষ ২৯ ম্যাচ ধরে অপরাজিত বায়ার্ন। ড্র নেই শেষ ২০ ম্যাচে!