স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ বর্তমান ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ বাহিনীতে যোগ দেওয়া সদস্য আমরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে সেক্টর কমান্ডারদের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমরা ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। তত্কালীন বাংলাদেশ রাইফেলস কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সনদ ও অস্ত্র জমাদানের রশিদসহ অন্যান্য প্রামাণিক কাগজ জমা নেন। পরবর্তী সময়ে গঠিত কমিটি আমাদের সাক্ষাত্কার নিয়ে এবং প্রামাণিক দলিল যাচাই-বাছাই শেষে নামের তালিকা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে প্রেরণ করা হয় (তখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কিংবা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়নি)। অতঃপর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী (বীর বিক্রম, পিএসসি)-এর পৃষ্টপোষকতায় লে. কর্ণেল (অব) চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ১৯৮৮ সালে ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’ প্রণয়ন করা হয়। যার সপ্তম ও অষ্টম খণ্ডে বিডিআর, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ১৯৮৭ সালে বিভিন্ন প্রত্রিকায় প্রকাশ করা হয়—যার মধ্যে আমাদের নাম আছে।
পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ইপিআর এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ রাইফেলস বর্তমান ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইপূর্বক মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিভিন্ন সময় আমাদের নামে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতা প্রদান করা হয়। ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে, যার মধ্যে আমাদের নাম আছে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-র সুপারিশক্রমে ১১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ স্মারক নং ৪৮.০২.০০০০.০০১.৩১.০৫১.১২.১৪০-এ ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশ রাইফেলস বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাহিনীতে যোগদান করা মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট পরিবর্তন করে বেসামরিক গেজেট করার উদ্যোগ নেয় এবং ১৫ জানুয়ারি ২০২০-র মধ্যে প্রামাণিক কাগজপত্রসহ জামুকার নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে বলা হয়। আমরা সবাই সেই সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিয়ে জামুকা থেকে সিরিয়াল নম্বরসহ রিসিভ কপি গ্রহণ করি। অতীব দুঃখের বিষয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় আমাদের বেসামরিক গেজেট প্রকাশ না করে বিনা নোটিশে ৭ জুন ২০২০ইং স্মারক নং ৪৮.০০.০০০০.০৪.০৪.৩৭.০০১.২০/১৬০ অনুযায়ী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাহিনীর ১১৩৪ মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এজন্য আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতাসহ রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতা আমাদের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন ছিল। আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের বিষয়ে বেসামরিক গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতাসহ রাষ্ট্রীয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের কাছে সনির্বন্ধ আবেদন জানাচ্ছি।
বিজিবি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষে
ফেরদাউস হাসান (রাসেল)
প্রভাষক, বাংলা, কলেজ ক্যাম্পাস : ইংলিশ ভারসন,
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মিরপুর, ঢাকা