আধুনিক সময়ের জনপ্রিয় পেশা রেডিও জকি বা আরজে, বাংলায় বলা হয় কথাবন্ধু। একজন মানুষ সমধুর কণ্ঠে কথা বলছে, তাকে না দেখেও কণ্ঠ শুনেই আকর্ষণ অনুভব করছে হাজারো শ্রোতা। বিভিন্ন সময় নানাবিষয়ে চলছে মেসেজ বা ভাবের আদানপ্রদানও, ফলে সমধুর কণ্ঠে কথাবলা মানুষটি হয়ে উঠছেন কথাবন্ধু। এমনই একজন হলেন বাংলারেডিওর আরজে ও সংবাদ উপস্থাপক ঊম্মে হাবিবা ঊর্মি। এবারের প্রিয়তারুণ্যে থাকছে কথাবন্ধু ঊর্মির কথা—
দিনাজপুরের মেয়ে ঊর্মিকে ছোটবেলায় তার মা কাজী নজরুল ইসলামের সংকল্প কবিতাটি আবৃত্তি করতে শিখিয়েছিলেন। সেই থেকে আবৃত্তির প্রতি ভালোলাগা জন্মে তার। ঊর্মি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন, সেবার কঠিন অসুখে পড়েন। প্রায়ই ঢাকা, এমনকি দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে চিকিত্সার জন্য ছুটতে হত বাবা-মাকে। ফলে সেসময় তার বেড়ে ওঠা অন্যদশজনের মতো ছিল না। মাঠে খেলতে যাওয়া, ঘুরোঘুরি, ছুটোছুটির সুযোগ পাননি। ঘরে বসে গল্পের বই পড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে। তাই একসময় এই ‘সাহিত্য’ নিয়েই কিছু করার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। স্কুলে আবৃত্তির পাশাপাশি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও বিতর্ক শুরু করেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় রংপুরে বাংলাদেশ বেতারের কেন্দ্রে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। এভাবেই চলছিল। রংপুরের বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়তে আসেন ঊর্মি। কলেজে এসেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। উচ্চমাধ্যমিকে পড়া অবস্থাতেই অনার্সের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবৃত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পুরস্কার পেয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর ঢাকায় এসে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন আইনে পড়ার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সুযোগ হচ্ছিল। অবিরাম কথা বলায় ভালোলাগা থেকেই ভাবলেন পেশাদারি কিছু করবেন। সেই ভাবনা থেকেই আরজে হবার জন্য বিভিন্ন রেডিওতে সিভি জমা দেন, দ্রুত সাড়া মেলে। প্রথম যে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন, সেখানে মাত্র দশদিনের গ্রুমিংয়েই অনএয়ারে আসেন তিনি।
পরবর্তীতে যোগ দেন বাংলা রেডিওতে। বাংলারেডিওতে ঊর্মী একাধারে আরজে, সংবাদ উপস্থাপক ও প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। মোটিভেশনাল শো ‘লেটস গো’ ও তারকাদের নিয়ে ‘স্টার্ডআস’ উপস্থাপনা করছেন তিনি।
ঊম্মে হাবিবা ঊর্মি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি শেষ করে এলএমএম পড়ছেন। ভবিষ্যতে আইনকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। আর তার কথায়, দারুণভাবে মানুষের ভালোবাসা পেতে চান, কথাবন্ধু হয়েই থাকতে চান।