জবির ব্লগার নাজিম হত্যা

আনসার আল ইসলামের ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ব্লগার নাজিম উদ্দিনকে হত্যায় সম্পৃক্তায়  আনসার আল ইসলামের সামরিক প্রশিক্ষক জিয়াউল ইসলাম ওরফে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত মেজর জিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গত ১৮ আগস্ট মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেছে। আলোচিত এ হত্যা মামলায়  যে ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চার জন গ্রেফতার হলেও বহিষ্কৃত মেজর জিয়াসহ পাঁচ জন পলাতক রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ব্লগার নাজিম উদ্দিন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ৯ জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে গত ১৮ আগস্ট চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে ৯ আসামির মধ্যে পাঁচ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র নাজিম উদ্দিন সামাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেসে ফেরার পথে লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাতে। ঘটনার দিন চার থেকে পাঁচ জনের গ্রুপ দুটি মোটর সাইকেলে এসে হত্যার পর পরই পালিয়ে যায়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল  সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি শুরুতে পুলিশ এবং ডিবি তদন্ত করলেও পরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তদন্ত করে ঐ হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ঐ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রশিদ উন নবী, মোজাম্মেল হোসাইন সায়মন, আরফাত রহমান এবং মো. শেখ আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তাদেরকে বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে এনে এ হত্যাকাণ্ডে একাধিক জঙ্গিদের সম্পৃক্তা পাওয়া যায়। তারাসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পাঁচ জনকে পলাতক দেখিয়ে গত ১৮ আগস্ট মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। পলাতকরা হলেন—সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া, মো. ওয়ালি উল্লাহ ওরফে ওলি, সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে কনিক, মওলানা জুনেদ আহম্মেদ ওরফে জুনায়েদ এবং আকরাম হোসেন।