৩০ আগস্ট পবিত্র আশুরা, হিজরি নববর্ষ শুরু আজ

চন্দ্রের পরিক্রমায় আরো একটি বর্ষ হারিয়ে গেল কালের কপোলতলে। বিদায় হিজরি ১৪৪১। আজ শুক্রবার পহেলা মহরম। আহলান সাহলান আরবি নববর্ষ, হিজরি ১৪৪২। বাংলাদেশের আকাশে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহরম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ১০ মহরম ৩০ আগস্ট রবিবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। গত রাত সোয়া ১১টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন চৌধুরী। কমিটি জানায়, মুন্সীগঞ্জে চাঁদ দেখা গেছে। মহরমের চাঁদ দেখা নিয়ে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে নাটকীয়তা।

আশুরার দিন সরকারি ছুটি পালিত হবে। মুসলমানদের রোজা, হজ, ঈদ, শবেবরাত, শবেকদর, শবে মিরাজসহ ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান হিজরি সনের ওপর নির্ভরশীল। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও আনন্দ-উত্সবসহ সব ক্ষেত্রেই মুসলিম উম্মাহ হিজরি সনের অনুসারী। হিজরি সনের প্রথম মাস মহরম। এ মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও তাত্পর্যপূর্ণ মাস। মহরম মাস শুধু কারবালার ঘটনা স্মরণ করার মাসই নয়, এ মাস গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার, ত্যাগের, ভালো কাজ করার, খারাপ কাজ হতে বেঁচে থাকার এবং মুসলিম বিশ্বকে নতুন করে গড়ার প্রতিজ্ঞা করার মাস। ইসলাম ও মুসলমানের জন্য এ মাসের রয়েছে অনেক শিক্ষণীয় ও পালনীয় বিষয়।

হিজরি সন গণনার সূচনা হয়েছিল ঐতিহাসিক এক অবিস্ময়রণীয় ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এবং তার সঙ্গী-সাথীবর্গের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আরবি মহরম মাসকে হিজরি সনের প্রথম মাস ধরে সাল গণনা শুরু হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জুমাদাল উলা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে। আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে হিজরি সনের গণনা সূচনা করেন। হিজরি সনের প্রথম মাস হলো মহররম।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে আশুরার দিন এবং এই মাসে রমজানের রোজার চেয়ে অন্য কোনো রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি। (মিশকাত শরিফ)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার বিশ্বাস যে, আশুরার রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা বিগত এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন’। (তিরমিজি শরিফ)।