সাম্মাম চাষে সম্ভাবনা

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

সুস্বাদু ফল সাম্মাম চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের দেশের কৃষকরা তেমন অবগত নন। তবে আমাদের দেশে বিদেশ থেকে এই ফল আমদানি করা হয়। আমাদের দেশেও এই ফলের বেশ কদর রয়েছে। তবে দেশের বেশ কিছু কৃষি খামার তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ফলের চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তারা এ ব্যাপারে সফলও হয়েছেন। বাংলাদেশের আবহাওয়া সাম্মাম ফলের চাষের জন্যে খুবই উপযোগী।

সাম্মাম ফল হানিজুসও বলা হয়ে থাকে। চারা রোপণের ৫০-৬০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এই জাতের বীজে ১০ গ্রামে ৩৫০ থেকে ৪০০টি বীজ থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ চারা রোপণ করা যায়। সাধারণত একবার শীত চলে যাওয়ার পর (রাতের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে) মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে, আরেকবার তাপমাত্রা কমে গেলে (দিনের তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে) মধ্য জুন থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর মাসে চাষ করা যায়। শিলাবৃষ্টি এবং বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পলি ট্যানেল বা পলি হাউজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া বছরের পুরো সময়ে গ্রিন হাউজে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেও চাষ করা যায়।

জমিতে গোবর ছাড়াও জিপসাম/ চুন, ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, জিংক, বোরন, ম্যাগনেসিয়াম মালবোট মালকার, রাগবি প্রয়োগ করতে হবে। মাটির পিএইচ ৬-এর নিচে হলেই প্রতি শতকে চার কেজি চুন দিতে হবে। জমি চাষের আগে মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। বীজ থেকে চারা উত্পন্ন হলে চারা বয়স ১০-১২ হওয়ার পর জমিতে রোপণ করা যাবে। জমিতে বেড তৈরি করে জমির চারিপাশে ১ ফুট চওড়া নালা রাখতে হবে। বেড হবে ৩.৫ ফুট চওড়া এবং আধা থেকে এক ফুট উচ্চতা। স্প্রে করে বেডের ছত্রাক দূর করতে হবে। মালচিং শিট বেড তৈরির পর বিছাতে হবে। চারা লাগানোর পর খেতে পানি সেচ দিতে হবে। ৫০-৬০ দিনে ফলন তোলা যায়। দামি ফল সাম্মাম চাষের ব্যাপারে কৃষকরা এগিয়ে এলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং দেশের মানুষ কম দামে বিদেশি সুস্বাদু ফলের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।