মাছের ঘের ও ফসলের ক্ষতির শঙ্কা
চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে গত কয়েক দিনের বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চিংড়ি ঘের ও সবজিখেতসহ বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া অনেক স্থানে বাড়ি-ঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এতে কৃষিকাজে ও মত্স্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দেওয়ায় হতাশ চাষিরা।
চিতলমারী সদর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঘের রক্ষা করতে চাষিরা নেটের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। চাষিদের একমাত্র ভরসা চিংড়ি ঘের ও সবজিখেত রক্ষায় তারা মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার নদী-খালে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডুমুরিয়া, খড়িয়া, আরুলিয়া, রায়গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের বাড়ি-ঘর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আলহাজ শেখ, দয়াল বালা, সাধন বৈরাগী, তাপস ভক্তসহ অনেকে হতাশা প্রকাশ করে জানান, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তাদের চিংড়ি ঘেরসহ আশপাশের অসংখ্য ঘের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নেট-পাটা দিয়েও শেষ রক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে তারা চিংড়ি চাষ করেছেন। প্রায় প্রতি বছরই এভাবে বন্যায় তাদের চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ায় সামনে বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন নেই বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তারা। শুরশাইল গ্রামের অনুম মণ্ডল জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তাদের বাড়ির আঙিনাসহ আশপাশে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা হয়েছে। এলাকার স্লুইস গেটের মুখে কচুরিপানাসহ আবর্জনায় আটকে আছে। এসব অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মারুফুল আলম জানান, অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার খবর পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।