বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহিদদের শোকাবহ পরিবেশে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার শপথ এবং গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবির মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পালিত হয়েছে রক্তস্নাত ভয়াল-বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট হামলার ১৬তম বার্ষিকী। আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা খুনিদের দ্রুত বিচারের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রেনেডের স্প্লিন্টারবিদ্ধ জীবন্মৃতদের দাবি, ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে।
শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার স্থলে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শহিদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।
আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহিদ, চার জাতীয় নেতা ও গ্রেনেড হামলার শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
পরে আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে ১৪ দলের পক্ষ থেকেও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বজন এবং বেশ কয়েক জন আহত নেতাকর্মী ক্র্যাচে ভর করে, হুইল চেয়ারে করে এসে শ্রদ্ধা জানান শহিদদের প্রতি। তাদের উপস্থিতিতে শোকের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ঐদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। হামলায় পঙ্গুত্ববরণকারী কয়েক জন নারীনেত্রী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘হাত-পা ক্ষত-বিক্ষত, জোড়াতালি দেওয়া। সর্বাঙ্গে বিঁধে থাকা স্প্লিন্টারের তীব্র যন্ত্রণা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিচার পাইনি। এরপর আশায় ছিলাম দল ক্ষমতায় আসবে, অপরাধীদের বিচার হবে। দল ক্ষমতায় আসার পরও কেন এখনো বিচার শেষ হলো না?’ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আহতরা বলেন, ‘জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকলেও আমাদের একটাই দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে যারা এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালাল সেই ঘাতকচক্র ও তাদের মদতদাতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।’
এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে গোটা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকাকে ২১ আগস্টের শহিদদের প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকচিত্র ও কালো পতাকা দিয়ে শোকের আবহে সাজানো হয়। হামলার আলোকচিত্র দেখে অনেককেই চোখের জল ফেলতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। তাদের স্মরণে প্রতি বছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।