জামিনে থাকার পরও এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে মিরসরাই থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ঐ বৃদ্ধকে কারাগারেও পাঠিয়েছে আদালত।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ফিরোজ (৮০) মিরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামের বজলুর ছোবহান চৌধুরীর ছেলে। বৃহস্পতিবার ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুলিশ ঐ বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে। পরে দুপুরে তাকে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদের আদালতে হাজির করে।
জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রিয়াদ জানান, ফেনীর আদালতে একটি মামলায় তার বাবা আগে থেকেই জামিনে ছিলেন। জামিন আদেশের নথি থানায়ও জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়মিত আদালতে হাজিরাও দিয়ে আসছিলেন। করোনাকালে আদালত বন্ধ থাকায় মামলার কার্যক্রম এতদিন বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার কাগজপত্রে স্বাক্ষরের কথা বলে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান এসআই মাকসুদ ও এসআই তাহের। পরে গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান করে দেয় পুলিশ। জামিনে থাকার কথা বারবার বলার পরও পুলিশ তা আমলে নেয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রহিমা আক্তার জানান, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগে পুত্রবধূর দায়ের করা এক মামলার ২ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি জামিন পান। জামিন আদেশের নথি আসামির ঠিকানা অনুযায়ী মিরসরাই থানায় জমা দেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর আমার মক্কেলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল মিরসরাই থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ‘জামিনে থাকার পরও আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ফিরোজের পরিবারের কাছ থেকে পুলিশ সদস্যের টাকা চাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। জামিনে থাকার বিষয়টি শোনার পর পরিদর্শক (অপারেশন) দীনেশ দাশকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠিয়েছি। মামলাটি ফেনী আদালতের হওয়ায় চট্টগ্রাম আদালত থেকে জামিন হয়নি। আমরা ফেনী আদালতের জিয়ারো পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আসামির জামিনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। ’