চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা হামলা

দুবাই প্রবাসীর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে

গত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের ষোলশহরে ট্রাফিক বক্সে বোমা হামলার ঘটনায় পরিকল্পনা ও অর্থায়নে লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী এক তরুণের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সংঘটিত ঘটনায় গ্রেফতার চার আসামির একজনের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে এমন তথ্য মিলেছে বলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম শাখার কর্মকর্তারা জানান।

শাহজাহান নামে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সি ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও তার বাবা লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের এক বাজারের মাংস বিক্রেতা বলে পুলিশ তথ্য প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ষোলশহর ২ নম্বর গেট ট্রাফিক বক্সের ঐ বিস্ফোরণে দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন আহত হন। বিস্ফোরণে ট্রাফিক বক্সটিতে থাকা সিগন্যাল বাতি নিয়ন্ত্রণের সুইচবোর্ড বিধ্বস্ত হয়। ঘটনার একদিন পর হামলার সঙ্গে আইএস যুক্ত বলে জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ দাবি করে।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে শাহেদ নামে (২০) এক কাঠমিস্ত্রিকে গত ২৭ জুলাই কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে শাহেদ পুলিশ বক্সে বোমা হামলা ও এর পৃষ্ঠপোষক দুবাই প্রবাসী শাহজাহান সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দেয় বলে পুলিশ সূত্রগুলো জানায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আফতাব হোসেন জানান, জবানবন্দিতে শাহজাহান নামে দুবাই প্রবাসী একজনের কথা বলেছে শাহেদ, যে কী না তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতো। শাহজাহান বিদেশে থাকলেও তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর ধরে দুবাইয়ে থাকা শাহজাহান তার বোনের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের মাঝামাঝি দেশে আসে। সে শাহেদকে নামাজ পড়তে উত্সাহিত করতো, গান শুনতে নিষেধ করতো। তার মোবাইল ফোনে কোনো গান পেলে তা মুছে দিতো। গত বছর শবে-বরাতে শাহেদের সঙ্গে জহির ও মোর্শেদ নামে দুই জনের পরিচয় করিয়ে দেয় দুবাই থেকে আসা শাহজাহান। ঐ জহির ও মোর্শেদ পুলিশ বক্সে বোমা হামলার অন্যতম নির্দেশদাতা বলে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন। ঐ দুই জনই মোটরসাইকেলের সিকিউরিটি লক, বিভিন্ন ধরনের আইইডি ও সরঞ্জাম কিনে দিয়েছিল। তাদের এখনো ধরা যায়নি। তারা তামীম আদনানী ও কাজী ইব্রাহীম নামে দুই জনের ওয়াজ শোনার জন্য কিছু ভিডিও দিয়েছিল শাহেদকে। সেই ওয়াজ শুনে শাহেদের পাশাপাশি প্রতিবেশি দোকান কর্মচারী কায়সার ও আবু ছাদেকও জঙ্গিবাদে উত্সাহী হয়।

শাহেদ পুলিশকে বলেছে, প্রতি শুক্রবার ভোরে নামাজ পড়ে তারা মসজিদে বসে আলোচনা করতো। শাহজাহান বিভিন্ন সময়ে ফোন করে তাদের ডাকতো। তারা না গেলে জহির ও মোর্শেদ তাদের মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যেতো। সেখানে বিভিন্ন ভিডিও দেখিয়ে তাদের জঙ্গিবাদে উত্সাহিত করা হতো।  আলাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, হাবিব, সেলিম, কাইয়ুম নামে আরো কয়েকজন সেখানে থাকতো। গত বছর রমজানে শাহজাহান দুবাই চলে গেলেও অপ্রচলিত বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সবার সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো বলে  প্রতীয়মান হয়েছে।