এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২০

জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র 

অলোক কুমার মিস্ত্রী, বিভাগীয় প্রধান

সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর।

 

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আশা করি, সবাই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করছ। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৪ অধ্যায়ের অনুজীব-বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, যা ২০২০ সালের এইচ.এস.সি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন : মুগ্ধ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ফাইনাল পরীক্ষার পর সে তার বাবা-মার কাছে গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গেল। সেখানে সে বেশ কিছুদিন যাবত্ মাথাব্যথা, মাংসপেশি ব্যথা, হাড়ের ব্যথা, ক্ষুধা-মন্দা, বমিবমি ভাব এ জাতীয় সমস্যায় ভুগছে। তার বাবা দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলেন।

(ক) ভিরয়েড কী ?                                        ১             

(খ) ভাইরাসের অসাড় বৈশিষ্ট্য তুলে ধর।            ২

(গ) মুগ্ধ’র যে ধরণের রোগ হয়েছে, তার কারণসহ ব্যাখ্যা দাও।                                               ৩

(ঘ) উক্ত রোগটির চিকিত্সা পদ্ধতি বিশ্লেষণ কর।  ৪

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর :

(ক) ভিরয়েড : ভিরয়েড হলো ক্ষুদ্র RNA দ্বারা গঠিত অতি আণুবীক্ষণিক জীবাণু, যা ভাইরাসের মতোই

বংশবিস্তার এবং জীবদেহে রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

(খ)  ভাইরাসের অসাড় বৈশিষ্ট্য :

* ভাইরাস অকোষীয় ও জীবকোষের সাহায্য ছাড়া স্বাধীনভাবে প্রজননে অক্ষম।

* জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার মতো নিষ্ক্রিয়।

* ভাইরাসের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে না।

 

(গ) উত্তর : মুগ্ধ’র ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক জ্বর রোগ। এ রোগ সৃষ্টিকারী রোগের নাম ফ্লাভি ভাইরাস। স্ত্রী এডিস মশা (Aedes aegypti) এই  ভাইরাসের প্রাথমিক বাহক। তাই এ মশার কামড়ে ভাইরাস মানবদেহে সঞ্চারিত হয়। ভাইরাস প্রবেশের ৪-১০ দিন পর আক্রান্ত মশা তার বাকী জীবনে মানবদেহে এ ভাইরাসের সঞ্চারণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত মানুষ অবশ্য এ ভাইরাসের প্রধান বাহকও বটে। এর ফলে মানবদেহের মধ্যে এদের বৃদ্ধি ঘটে থাকে এবং অসংক্রমিত মশার জন্য ভাইরাসের উত্স হিসেবে কাজ করে থাকে।

(ঘ) উত্তর : মুগ্ধ’র রোগটি হলো ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু জ্বরে রোগীতে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ দিলে মারাত্মক পরিণতি দেখা দিতে পারে। তাই এ জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।

* ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

* রক্তের সাম্যতা রক্ষার জন্য প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশন এর প্রয়োজন পড়তে পারে।

* রোগীকে প্রচুর পানীয় খাবার যেমন- ফলের রস, পানি ও তরল খাবার দিতে হবে।

* রোগীকে যতটা সম্ভব দেরি না করে হাসপাতালের ইন্টেসিভ কেয়ার ইউনিটে ট্রান্সফার করতে হবে।

* মাথায় পানি ঢালা, গায়ের ঘাম মুছে দেয়া, ভেজা কাপড় দিয়ে রোগীর সমস্ত  শরীর স্পঞ্জ করে দেয়া রোগীর জন্য ফলদায়ক হবে।

* যথাসময়ে  বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে।