মাদারগঞ্জে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা কৃষকদের

চার দফা বন্যা

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

বন্যায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। ৪ দফার বন্যার পর হতাশ হয়ে পড়া কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও মাঠে নেমেছেন। তারা ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছেন।

উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের সবজি চাষি মোজাম্মেল হক জানান, বন্যায় তার কয়েক বিঘা জমির বিভিন্ন সবজির ক্ষতি হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের ক্ষতিটা ব্যাপক। তাই বন্যার পর আবার তিনি চাষাবাদে নেমে পড়বেন। একই ইউনিয়নের কামরিয়া গ্রামের সবজি চাষি কৃষক টুনু মিয়া জানান, এবার বন্যা তার সব ফসল শেষ করে দিয়েছে। এখন এই এলাকার কৃষকদের জন্য মরিচ আবাদের সময়। এখনো খেতে পানি থাকায় মরিচের চারা ফেলতে পারছেন না। ফলে বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ থেকে বেশি দামে চারা কিনে তারা লোকসানের ভাগে পড়তে পারেন। এদিকে, রোপা আমনের বীজ সংকটে পড়েছে হাজার হাজার চাষি। তারা বন্যায় বীজতলা হারিয়ে আসন্ন রোপা আমনের শেষ সময়ে আমন চারার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। আগের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ চড়া দামে তারা টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকা থেকে আমন চারা সংগ্রহ করছেন। ঝুঁকি নিয়ে আবার মাঠে নেমেছেন।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাহফুযুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় উপজেলায় সাড়ে ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের আবাদি ৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, আউশ, পাট, শাকসবজি, কলা, তিল, মরিচ তলিয়ে যায়। এর মধ্যে রোপা আমন বীজতলা ৭৫০ হেক্টর, আউশ ৭১৫ হেক্টর, পাট ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর, তিল ১০ হেক্টর, কলা ১০ হেক্টর, মরিচ ১০ হেক্টর। যার বাজার মূল্যে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুযুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজম বলেন, এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের সহযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণ বিতরণসহ কৃষি পুনর্বাসনের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। সার, বীজ, আমনের চারা, কীটনাশক এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানে ইতিমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।