চা উত্পাদন ব্যাহত!
নূরুল মোহাইমীন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
কমলগঞ্জে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকায় চা-উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাবসহ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিদ্যুত্ গ্রাহক। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের অধীনস্থ চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুত্ গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সাপ্লাইকৃত পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে পড়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ চা-সংসদ, মনু-ধলই ভ্যালী সার্কেলের চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) চাম্পারায় চা-বাগান ব্যবস্থাপক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার পর কোনো কোনো সময় কারখানার মটর নষ্ট হয়ে পড়ে। চা প্রক্রিয়াজাতকরণ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জিএম বরাবরে লিখিতভাবেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) কমলগঞ্জের ডিজিএম মাহমুদুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ফ্যাক্টরিতে সবকিছু সেট করার পর যখন কারেন্ট চলে যায় তখন মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। পুনরায় জেনারেটর লাগিয়ে সেট করতে গিয়ে চায়ের কোয়ালিটিও বিনষ্ট হয়। তাছাড়া জেনারেটরে কারখানা চালু অনেক ব্যয়বহুল। অন্য দিকে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম থাকে। তাতেও ক্ষতি হয়। গবেষক ও সংগঠক আব্দুস শহীদ সাগ্নিকসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রান্সফরমার বিকল, গ্রিডে পাখি বসা এমন অজুহাত দেখিয়ে ঘনঘন বিদ্যুত্ বন্ধ রাখা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কমলগঞ্জ জোনালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গণেশ চন্দ্র দাস বলেন, ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ার পর বর্তমানে পিডিবির সাপ্লাইকৃত পাওয়ার ট্রান্সফরমারের সঙ্গে যুক্ত করে তিন উপজেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে ৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ৩২ মেগাওয়াট এবং অবশিষ্ট ২১ মেগাওয়াটে শ্রীমঙ্গল থেকে ছয় মেগাওয়াট আনার পরও ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ঘাটতিতে রাত্রিকালীন লোডশেডিং করে চলতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ট্রান্সফরমারটি স্থাপন করা হলে সমস্যার সমাধান হবে।