মেহেরপুর প্রতিনিধি
ইন্টারনেটের গতি কম হওয়ায় স্কুল-কলেজের ভার্চুয়াল ক্লাস, অনলাইন অফিশিয়াল কনফারেনস, কেনাকাটা, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন, অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের মতো ইন্টারনেট নির্ভর কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) সঙ্গে কথা বলেও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অধিকাংশ সময়ই পরামর্শ দেন ‘আপনার যন্ত্র/ডিভাইস/সিস্টেম পুনঃচালনা করুন।’ এতে কখনো কখনো সাময়িক পরিত্রাণ মিললেও দীর্ঘমেয়াদে গতি সমস্যার সমাধান হয় না। ভুক্তভোগীরা বলছেন, করোনা দুর্যোগে ইন্টারনেটের গ্রাহক ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে না আইএসপিগুলো। সক্ষমতার অনেক বেশি ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে। ফলে একই ইন্টারনেট গতি বস্তুত তারা তাদের নির্ধারিত গ্রাহকের তুলনায় অনেক বেশি গ্রাহকদের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ায় গতি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বাড়িবাকা সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাশ্বত নিপ্পন জানান, স্থানীয় কম্পিউটার মেট থেকে মাসিক ৮০০ টাকায় সংযোগ নিয়েছেন। এজন্য তাকে পাঁচ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায় না। মেহেরপুর প্রতিদিন পত্রিকায় কর্মরত আইটি ইনচার্জ রোকনুজ্জামান জানান, আমরা অফিসে কার্নিভাল থেকে ২০ এমবিপিএসের লাইন নিয়েছি। কিন্তু কোনো সময়ই পাঁচ এমবিপিএসের বেশি পাই না। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আশিক সেজান করোনাকালে মেহেরপুরের নিজ বাড়িতেই ক্লাস ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন। তিনি জানান, ইন্টারনেট স্পিড কম থাকায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে কম্পিউটার মেটের মালিক জুয়েল জানান, আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। তথ্য লাগলে আমার অফিসে আসেন। অন্যদিকে কার্নিভালের ব্রাঞ্চ ইনচার্জ ইমতিয়াজ হক জানান, গ্রাহকদের অভিযোগের কারণে আমরা কোম্পানি পরিবর্তন করেছি। আশা করছি গ্রাহকরা ভালো মানের সার্ভিস পাবেন। গ্রাহকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এর জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ বা অর্থ ফেরত দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, না দেওয়া হয়নি। সাবেক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ওয়ালিদ হাসান লিটন জানান, মাদার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে দামে ব্যান্ডউইথ কেনা হয়, সেই দামেই বিক্রি করতে হয়। ফলে কোনো লাভ থাকে না। লাভবান হতে হলে ১০০ ইউজারের জন্য কেনা ব্যান্ডউইথ ২০০ জনের মধ্যে বিক্রি করতে হবে। এতে ইউজাররা চাহিদার গতি থেকে বঞ্চিত হন। এই কারণে তিনি ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ইন্টারনেটের গতি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ পেলে বিটিসিএলের কর্মকর্তাদের নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।