চাই সচেতনতা ও ধৈর্যের পরিচয়

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ২৬ মার্চ হইতে সমগ্র দেশের গণপরিবহন বন্ধ করিয়া দেয়। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ঔষধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন ছিল এই নিষেধাজ্ঞার বাহিরে। গত ৩১ মে বিভিন্ন অফিস-আদালত সীমিত আকারে খুলিতে শুরু করিলে পরের দিন পহেলা জুন হইতে গণপরিবহনও স্বাস্থ্যবিধি মানিয়া ও শর্তসাপেক্ষে খুলিয়া দেওয়া হয়। এই সময় সরকারের সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাহাতে বলা হয়, সকল প্রকার বাস ও মিনিবাসে পাশাপাশি দুইটি আসনের একটি খালি রাখিয়া যাত্রী পরিবহন করিতে হইবে, যাহাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে। ইহাতে মোট আসনসংখ্যার অর্ধেকের অধিক যাত্রী বহন করা যাইবে না। এই ক্ষতি পোষাইয়া লওয়ার জন্য আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা—দুই রুটেই বাস-মিনিবাস চলাচলে শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে নিউ নরমাল পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা লইয়া পূর্বের মতো ভয়ভীতিও তেমন নাই। আবার এই ব্যাপারে বাড়িয়াছে সচেতনতাও। এই অবস্থায় অফিস-আদালত, হাট-বাজার, রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র মানুষের আনাগোনা বাড়িতেছে। গণপরিবহনেও তাহার চাপ ক্রমবর্ধমান। ফলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও শিথিলতা দেখা দিলেও ভাড়া পূর্বের মতোই আদায় করা হইতেছে, যাহা লইয়া যাত্রীসাধারণের মধ্যে দেখা দিয়াছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

সরকারের সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘অনুমোদিত ভাড়ার হার করোনা ভাইরাস-জনিত (কোভিড-১৯) সংকটকালের জন্য প্রযোজ্য হইবে। এ সংকট দূর হইলে প্রজ্ঞাপনদ্বয়ের বিদ্যমান হারের ভাড়া পুনঃপ্রযোজ্য হবে’। এখন প্রশ্ন হইল, করোনা সংকট কি আদৌ দূর হইয়াছে? এই দিকে বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, আগামী দুই বত্সরেও করোনা পৃথিবী হইতে বিদায় হইবে না। দক্ষিণ কোরিয়া, লেবানন, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে নূতন করিয়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়িতেছে। এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে শিথিলতা প্রদর্শন কতটা যৌক্তিক তাহা প্রশ্নসাপেক্ষ। যদিও জীবিকার তাগিদে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল বাড়িতেছে, তথাপি নিয়মকানুন অনুসরণে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হইতেছিল কিছু দিন পূর্বেও, তাহা হইতে এখনো সরিয়া আসিবার সময় আসে নাই।

যেহেতু নূতন পরিস্থিতিতে বাসে ভাড়া লইয়া যাত্রীদের সহিত হেলপার ও ড্রাইভারের বাগিবতণ্ডা বাড়িতেছে, বাসে নিয়ম লঙ্ঘন করিয়া অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হইতেছে গাদাগাদি করিয়া, তাই এই বিষয়টিরও একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান দরকার। আমরা মনে করি, রাস্তায় জনস্রোত আর বন্ধ করা যাইবে না। তবে সবাই যাহাতে মাস্ক পরিধান করে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও স্প্রে করিয়া গাড়িতে যাত্রী উঠানো হয়, গাড়ি কিছুক্ষণ পরপরই জীবাণুমুক্ত করা হয়, সেই দিকে অবশ্যই লক্ষ রাখিতে হইবে। যেহেতু বাসে যাত্রীদের চাপ বাড়িতেছে, সেহেতু এখন দুই সিটে এক জন করিয়া বসিবার নিয়ম মানা কঠিন। এই অবস্থায় অতিরিক্ত বাসভাড়া তুলিয়া দেওয়া প্রয়োজন। আগামী সেপ্টেম্বর হইতে তাহা তুলিয়া দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রহিয়াছে সরকারের। ততদিন যাহাতে বাসে চলাফিরায় কোনো ঝুটঝামেলা না হয়, সেই জন্য সকলকেই সচেতনতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হইবে।