দেশের উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই!

মো. ওয়াদুদ রহমান ওয়ালিদ

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অতি ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। তবে ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৬৫ লাখ; যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২.২ শতাংশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭ শতাংশ। জনসংখ্যা যেমন বেশি তেমনি কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও অর্ধেকের বেশি। এমন দেশে জনসংখ্যা সম্পদ না বোঝা? সহজ ভাষায় বললে, অদক্ষ জনশক্তি রাষ্ট্রের বোঝা আর দক্ষ জনশক্তি রাষ্ট্রের সম্পদ। তবে জনসংখ্যা কম হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সহজ হয়, অন্যথায় কঠিন।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফি ট্যানজিশনে তৃতীয় ধাপে অবস্থান করছে অর্থাত্ জন্ম-মৃত্যুর হার কমেছে, জন্ম নিরোধকের ব্যবহার বেড়েছে, জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও শিল্প-কলকারখানার প্রসার ঘটানো ছাড়াও নানামুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় মিলছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম (বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্য)। বাংলাদেশ ব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের ৬২ শতাংশ অদক্ষ এবং ৩৬ শতাংশ আধাদক্ষ। অর্থনীতির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। এই অদক্ষ জনগোষ্ঠীর বয়স দিন দিন বৃদ্ধি পেলে সত্যিকার অর্থে তারা দেশের বোঝায় পরিণত হবে। ক্রমান্বয়ে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

এদিকে, গড় আয়ু ৭২.৬ বছর, প্রতি হাজার শিশুর ও প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ২৪ ও ১৭৬ জন এবং মোট প্রজনন হার ২.৩। এসব ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। সরকারি চাকরির সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। বিসিএস পরীক্ষা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু তার পরও তরুণদের একটা বড় অংশ ঝুঁকছে বিসিএস নামক এই চাকরির দিকে। ফলে শ্রমশক্তির ব্যাপক অপচয় হচ্ছে।

বাংলাদেশে ১৫-৬৫ বয়সি কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি। দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আর এটাই বাংলাদেশকে পরিবর্তন করার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ।

তাই, করোনা পরবর্তী সময়ে বেকারদের নিয়ে বহুমুখী পরিকল্পনা, শিক্ষিত বেকারদের আইটি প্রশিক্ষণ, কর্মভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মেধা পাচার রোধ, শ্রমিকদের কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নীতকরণের পাশাপাশি বিশ্ব জনশক্তির চাহিদা অনুসারে আমাদের তরুণদের গড়ে তুলতে হবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, পপুলেশন সায়েন্স হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট,  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়