সানেম ও অ্যাকশন এইডের গবেষণা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার সঠিকভাবেই ডিজিটাল বাংলাদেশের নীতি গ্রহণ করেছে। তবে জেন্ডার, বয়স, অঞ্চল ও আয় ক্ষমতাভেদে প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো বৈষম্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশে বেশ বড় ধরনের ডিজিটাল বৈষম্য বা বিভাজন বিরাজ করছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গতকাল শনিবার ‘জেন্ডার অ্যান্ড ইয়ুথ ইনক্লুসিভনেস ইন টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে এক গবেষণার তথ্যে এ কথা বলা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ওয়েবিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন। ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। সানেমের গবষেক মাহতাব উদ্দিন ওয়েবিনারে গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ছেলের মোবাইল ফোন থাকলেও, মেয়েদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশের মোবাইল ফোন আছে। সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ পরিবারের ৭৩ শতাংশ তরুণীর হাতে মোবাইল ফোন থাকলেও, সবচেয়ে কম আয় করা ১০ শতাংশ পরিবারের মাত্র ২৪ শতাংশ তরুণী মোবাইল ফোনের মালিক। ফলে স্পষ্টতই, নিম্নতম আয়ের দশমাংশে এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে মোবাইলের মালিকানার পার্থক্য ৪৪ আর উচ্চতম আয়ের দশমাংশে এ পার্থক্য ১৯। এ গবেষণায়, ‘ইন্ট্রা-হাউজহোল্ড জেন্ডার প্যারিটি ইনডেক্স’ তৈরি করা হয়েছে, যেটির মাধ্যমে নারীর প্রতি বৈষম্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। এই ইনডেক্সে জাতীয়ভাবে স্কোর পাওয়া গেছে ০.৪৬, যা প্রকট জেন্ডার বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ডিজিটাল বৈষম্য আছে। বাংলাদেশে মাত্র ৬ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার আছে, ৪ শতাংশের কম নারী কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান আলোচনায় উল্লেখ করেন, চলমান কোভিড-১৯ সংকটে এই ডিজিটাল অসমতার বিষয়টি আরো প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তি বিভাজনের মূল কারণ হলো সামাজিক প্রেক্ষাপট। সামাজিক নানা সংস্কার এবং রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে প্রায়শই নারীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয় বা নিরুত্সাহিত করা হয়।
ওয়েবিনারের সভাপতি ফারাহ কবির বলেন, শিক্ষা গ্রহণ শেষে নারীর ক্যারিয়ার কেমন হবে, সমাজে তার অবদান কোথায় থাকবে—সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।