রায়হানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে অঝোরে কাঁদলেন মা রাশিদা বেগম। মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হয়ে ২৭ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর গতকাল শনিবার বাড়ি ফিরেছেন রায়হান কবির। এ সময় তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন। রায়হান কবির জানিয়েছেন, কয়েক দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের বাস্তব জীবন এবং তার রিমান্ডের বিষয়ে কথা বলবেন। তিনি এখন প্রবাসীদের জন্য কাজ করবেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া লকডাউন’ শিরোনামে গত ৩ জুলাই কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরায় প্রচারিত এক প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় করোনা পরিস্থিতিতে অবৈধ অভিবাসীদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে অভিমত প্রকাশ করেন সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশি নারায়ণগঞ্জের রায়হান কবির। সেখানে মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগে গত ২৪ জুলাই রায়হানকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। দুই দফায় ২৭ দিন রিমান্ডে ছিলেন। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে এয়ারপোর্টে এনে দিয়ে যায় পুলিশ। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করেছিল বলেই চার্জ গঠন করতে পারেনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় নিজ বাসায় ফিরেন রায়হান কবির। ছেলের জন্য মা রাশিদা বেগম সারারাত নামাজ আদায় ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছিলেন। রায়হান বাসায় ফেরার পরেই মা তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রায়হানও মাকে ধরে কাঁদতে থাকেন। রায়হানকে দেখার জন্য আশপাশের লোকজন সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করেন।

রায়হানের বাবা মো. শাহ আলম জানান, সন্তানকে ফিরে পেয়ে তাদের প্রাণে শান্তি ফিরে এসেছে। রায়হানরা এক ভাই এক বোন। পড়াশুনা করতে রায়হান মালয়েশিয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে খালি হাতে এসেছে। তার সার্টিফিকেটসহ সকল কাগজপত্র মালয়েশিয়াতে রয়েছে। তবে এসব কাগজ এখন না পেলেও তাদের দুঃখ নেই, কারণ ছেলে জীবিত ফিরে এসেছে। তাকে আর দেশের বাইরে পাঠানোর ইচ্ছা নেই তাদের।

মা রাশিদা বেগম বলেন, ছেলেকে পেয়ে আমি মহাখুশি। মিডিয়াসহ সবাই আমার ছেলের পাশে দাঁড়াইছে, সবার জন্য আমি দোয়া করি। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তো আমার ছেলেকে ফেরত পাইছি। অনেক মায়ের ছেলে বিভিন্ন দেশের আনাচে-কানাচে পইড়া আছে। তাদের দেখার কেউ নাই। সরকার যদি সুদৃষ্টিতে তাকায় তাহলে আমার মতো সব মায়ের মন ঠান্ডা থাকবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশে বৈধভাবে মালয়েশিয়া যান রায়হান কবির। ২০১৭ সালে কুয়ালালামপুর টিএমসি ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কোর্স শেষে ভর্তি হন এমবিএতে। লেখাপড়ার খরচ চালাতে কাজ নেন সেখানকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। আলজাজিরার সাক্ষাত্কারে মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে তিনি কিছুই বলেননি। শুধু প্রবাসীদের দুঃখ, কষ্ট ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন।