গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণে ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এক বছর পার হলেও এসব প্রতিষ্ঠান টুনা মাছ আহরণ করেনি। এমনকি জাহাজও সংগ্রহ করতে পারেনি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতায় টুনা মাছ সংগ্রহে প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলট প্রকল্প নিয়েছে সরকার। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তর।
সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তর জানায়, বঙ্গোপসাগরের ৫০০ মিটার গভীরতার পর থেকে ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় উন্মুক্ত এলাকায় লং লাইনিং ও পার্স সেইনিং প্রযুক্তিতে টুনা মাছ আহরণে ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয় সরকার। বড়শিজাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ ধরা হলো লং লাইনিং এবং ঘেরা জালের প্রযুক্তিকে বলা হয় পার্স সেইনিং। বলা ছিল, জাহাজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে ২০২০ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের শেষ অংশ ও সংলগ্ন ভারত মহাসাগর এলাকায় টুনা মাছ আহরণ শুরু করবে। কিন্তু এক বছরেও এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাই সরকার নিজেই উদ্যোগী হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাছ ধরার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল জাহাজ প্রয়োজন। এমন জাহাজ সংগ্রহে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে। মাছ ধরার একেকটি জাহাজের মূল্য শত কোটি টাকার বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, কেবল টুনা আহরণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ পরবর্তী সময়ে কতটুকু সফল হবে, এই চিন্তায় অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহে ভাটা পড়েছে।
বঙ্গোপসাগরে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত এলাকা, যেখানে আছে টুনাজাতীয় মাছের আনাগোনা। প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত এলাকা থেকে প্রচুর মত্স্য আহরণ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
জানতে চাইলে লং লাইনিং জাহাজে টুনা আহরণের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত ব্লু হারবার ফিশারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, এসব এলাকায় মাছ আহরণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিপ প্রয়োজন। এর জন্য প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু কোনো ব্যাংক এই খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী না হওয়ায় অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জাহাজ সংগ্রহ করতে পারেনি। ব্লু ইকোনমি সম্প্রসারণের স্বার্থে এই খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।
সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমন বড়ুয়া জানান, সরকারের এই পাইলট প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে টুনা মাছ আহরণে আগ্রহী করে তোলা। বিশ্ববাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় সামুদ্রিক খাদ্য টুনাজাতীয় মাছ আহরণ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সামুদ্রিক মত্স্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গভীর ও উন্মুুক্ত সমুদ্রে বড় আকারের টুনাজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আনাগোনা নিশ্চিত হওয়ার পর দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অতি উচ্চমূল্য হওয়ায় বিশ্বব্যাপী টুনা মাছের আহরণ নিয়ন্ত্রণ, মজুত ও নিরপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে জাতিসংঘ। ভারত মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশন কাজ করছে কয়েক দশক ধরে। বাংলাদেশ সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, ভারত মহাসাগর এলাকায় টুনা মাছের ২০ শতাংশ মজুত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।