নারীদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে -------- তাসমিমা হোসেন

জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইত্তেফাক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, নারীদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এখন সময় বদলে গেছে। মানুষ বুঝতে চায়, শিখতে চায়, জানতে চায়। এই যে পরিবর্তন আসছে তা কল্পনাতীত।

গতকাল শনিবার বিকালে ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা জেপির কার্যালয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ২৬ বছর আগে যখন আমি ভাণ্ডারিয়ায় প্রথম আসি তখন এ অঞ্চলের যে অবস্থা ছিল, এখন সব ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।  কারণ সময় বদলে গেছে। মানুষের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন। সবাই স্মার্ট হয়ে গেছে। সর্বত্র একটা পরিবর্তনের ধারা বইছে। করোনাকালে দেশে স্মার্ট ফোনের কারণে ৮৫ লাখ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। আজকে এখানে অনেক নতুন মুখ দেখছি। আমি যখন এখানকার এমপি ছিলাম তখন অনেকে ছোট ছিল, এখন বড় হয়ে গেছে। রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসছে। নতুন নতুন খেলা দেখছি। যারা এক সময় জামায়াত করত, শান্তি কমিটিতে ছিল তারা এখন নৌকায় উঠতে চায়।

তাসমিমা হোসেন আরো বলেন, দল করতে হলে ভালো-মন্দ বিচার করে কাজ করতে হবে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে কে এ এলাকার উন্নয়ন করছে! যারা ইতিহাস জানেন, তাদের বুঝতে হবে বঙ্গবন্ধু কে, মানিক মিয়া কে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কে। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে আমাদের যে পারিবারিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতে ছিল, আজও তা অটুট আছে।

তিনি বলেন, আজ যখন একটি কলেজে ছাত্রীদের সঙ্গে উপবৃত্তি বাছাই অনুষ্ঠানে কথা বলি তখন দেখি অনেক দিনমজুর, রিকশাচালক পরিবারের মেয়েরাও অনেক স্মার্ট হয়ে গেছে। এই পরিবর্তনের জন্য ঘরে নারীদের সহনশীল এবং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। হিংসা, অহংকার পরিহার করে সত্ভাবে আত্মনির্ভরশীল হয়ে বাঁচতে হবে। একটি ঘরে নারী সঠিক না থাকলে সে পরিবার টেকে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হলে স্থানীয়ভাবে  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমিতি করে একত্রিত হলে পরে তাদের শক্তি ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। ’৯৬ সালে আমি ভাণ্ডারিয়ায় ৩৮টি নারী সংগঠন করেছি। কারণ সংঘবদ্ধ থাকলে অনেক কিছু অর্জন করা যায়। সংঘবদ্ধ থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যে বরাদ্দ স্থানীয় পর্যায়ে দেওয়া হয় তার সুষম বণ্টনে ন্যায্য হিস্যা আদায় করা সম্ভব হয়। গণতান্ত্রিক সরকারে কেউ খাবে আর কেউ খাবে না তা হবে না।

জাতীয় মহিলা পার্টির উপজেলা সভানেত্রী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে  সভায় আরো বক্তব্য রাখেন তাসমিমা হোসেনের সফরসঙ্গী বিশেষ অতিথি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সাবেক কর্মকর্তা দিলারা বেগম, জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, পৌর জেপির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন স্বপন মিয়া, জেপির নারী নেত্রীদের মধ্যে রোজী জামান, মুক্তা ভৌমিক, আসমা আক্তার, শাহানা ফরিদ প্রমুখ।

এর আগে সকালে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাসমিমা হোসেন কলেজের একাদশ শ্রেণির উপবৃত্তি বাছাই এবং সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, সব ক্ষেত্রে গঠনমূলক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কাজ করলে যে কোনো কাজে সুফল পাওয়া যায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাটে ছেয়ে গেছে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন মামুন, উপাধ্যক্ষ মো. আবু জাফর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলম, কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, মো. মহসীন মিয়া শাহিন, আব্দুস সালাম খোন্দকার, আবুল কালাম হাওলাদার, প্রভাষক বিশ্বাস সাইদুর রহমান প্রমুখ।

এছাড়া তাসমিমা হোসেন রাতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খসরু জোমাদ্দারের মা সদ্য প্রয়াত মরহুমা মোতাহারা বেগমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি মরহুমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।