ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়োগ ও লাইসেন্স বাণিজ্য ভুক্তভোগীর প্রতিকার দাবি

ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ ও লাইসেন্স বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঢাকা-১৪ সংসদীয় আসনের উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন দারুস সালাম এলাকার (১০ নম্বর ওয়ার্ড) নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেখানে রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা কাজী হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। ২০১৮ সালের ৫ মে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের জন্য প্যানেল তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ কমিটির উপদেষ্টারা যাচাই-বাছাই করে তিন জন প্রার্থীকে প্যানেলভুক্ত করে থাকেন। প্যানেলের প্রথম জন কোনো কারণে যোগদান না করতে পারলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জন সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে প্যানেলে প্রথমস্থানে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। অথচ রেজিস্ট্রার অফিসের কুচক্রি মহল উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে তাকে নিয়োগ না দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বেআইনিভাবে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাও নন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ওয়ার্ড কমিশনার পৃথকভাবে লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। এদিকে ন্যায় বিচার পেতে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করলে ঐ চক্রের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করে। প্রত্যেকটি মামলা খারিজ করে রফিকুলের অনুকূলে রায় দেন আদালত।

তিনি আরো বলেন, মামলা চলাকালে গত তিন বছরে নানা অজুহাতে চক্রটি কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। অথচ আদালতের রায়, এমপির ন্যায়সঙ্গত সুপারিশ কোনোটারই তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে অন্যকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। এই অনিয়মের নিয়োগ বাতিল করে তদস্থলে তাকে নিয়োগ দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা এবং একই সঙ্গে কুচক্রি মহলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।