সাইফের স্বপ্নটা বাড়ি গেল না

  আবদুল্লাহ আল নোমান

 

মা-বাবা স্বপ্ন দেখতে থাকেন ছেলে পড়াশুনা করে বড় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বেশি বেশি টাকা উপার্জন করবে, তিনবেলা ভালো খেতে পারবে, ঘরবাড়ি ঠিকঠাক হবে আরো কত কী! কিন্তু একি! ১৯ আগস্ট কিডনি রোগ আর করোনার কাছে হেরে গেল সাইফের বাবার স্বপ্নটা। সাইফ তিন মাস ধরে রোগে ভুগছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করোনা টেস্ট করালো। তাতে ধরা পড়ল কিডনি জটিলতা। তার দুইটি কিডনিই ড্যামেজ ছিল। তারপর করোনা রেজাল্ট এলো পজিটিভ। ১৯ আগস্ট  সাইফ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ঢাকার মুগদা হাসপাতালে।

সাইফ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। তার এমন অকালে চলে যাওয়াটাই বড় ধাক্কা তার পরিবারের জন্য। যিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। অকালে এক বীরের জীবন প্রদীপ এভাবে নিভে গেল! ভাবতে খুব কষ্ট হয়। দুনিয়ার সবচেয়ে ভারী বোঝা হচ্ছে পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। কিন্তু কখনো কখনো কোনো কোনো লাশের বোঝা এত ভারী হয়ে যায় যে, তা পিতা-মাতার শোককম্পিত কাঁধ ছাপিয়ে সমগ্র জাতির কাঁধে বিস্তৃত হয়ে পড়ে। সেই ভার বহন করতে গিয়ে পুরো জাতিকে ক্লান্ত হতে হলো।

কী অসাধারণ উদ্ভাবনী চিন্তা, কী অতুলনীয় স্বপ্নবাজ একজন ছাত্র!! সাইফ তার লক্ষটা পূরণ করতে পারলে হয়তো বাংলাদেশের একজন গর্বিত লোক হতো বিশ্ব দরবারে—এক বিশাল স্বপ্ন চোখ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করেছিলেন। সেই সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত তরুণ এক মরণব্যাধি রোগে পড়ে অকালে অনন্তকালে চলে গেল। সাইফের বাড়ি নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মুন্সিরহাটে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান সাইফ বহু কষ্টে পড়ালেখা করেন। তার বাবা সামান্য একজন মুদির দোকানের ব্যবসায়ী ছিলেন। মা একজন গৃহিণী। বাবা-মার কত স্বপ্ন ছিল সাইফকে নিয়ে। প্রকৃতির কী অদ্ভুত খেলা সাইফের স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না।