দেশের করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সবাই এখন ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছে।
আগের মতো ক্লাস নেই, নেই পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ। হাতে এখন অফুরন্ত সময়। তারা এটাকেই সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে। নিজে কিছু করে উদ্যোক্তা হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। এই চ্যালেঞ্জে জয়ী সৈয়দপুরের অদম্য দুই শিক্ষার্থীর গল্প নিয়ে আজকের এই আয়োজন। লিখেছেন— মো. আমিরুজ্জামান
সুমি আক্তার লাবণী
দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সুমি আক্তার লাবণী। বাড়ি সৈয়দপুরের সাহেবপাড়ায়। পড়াশোনার ব্যস্ত সূচির ফাঁকে টুকটাক টিউশনি করতেন। নিজের হাতখরচ নিজেই জোগাতেন। চলমান এই করোনার দুর্যোগে ঘরবন্দি সময়ে ভিন্নধর্মী কিছু করার প্রত্যয়ে তিনি ‘লিচুবাগান’ নামে একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করেন। তার এই প্রজেক্টের আওতায় অনলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু বিক্রি শুরু করেন। বাগান থেকে লিচু কেনা থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজটি তিনি একাই তদারক করেন। প্রথমে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাহকদের লিচুর চাহিদা মেটাতে তার ব্যবসার প্রসার ঘটে। লিচুর মৌসুমে সৈয়দপুরের উদীয়মান এই নারী উদ্যোক্তা একাই প্রায় চারটি বাগানের লিচু বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু এতেই শেষ নয়, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ামাত্রই অনলাইনে তিনি আম বিক্রি শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ারের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে সুস্বাদু আম বিক্রি করতে সক্ষম হন। এতেও তিনি ভালো লাভ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আম-লিচুর আগামী মৌসুমে তার ক্ষুদ্র পুঁজির এই ব্যবসা ধরে রাখতে চান।
খন্দকার আবিদা সুলতানা
সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজের ছাত্রী খন্দকার আবিদা সুলতানা। এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবিদার অন্য সহপাঠীরা যখন করোনার কারণে পরীক্ষা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে, তখন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বিজনেস চালু করেছে আবিদা। প্রথমত, পাহাড়ি অঞ্চলের জুম শাড়ি দিয়ে যাত্রা শুরু করা তার ‘শখের বাড়ি’ নামক প্রতিষ্ঠান থেকে এখন থ্রি-পিস ও মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে। অল্প দিনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া তার এই বিজনেস সৈয়দপুরের ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে আরো বৃহত্ পরিসরে শখের বাড়ির হাল ধরার পরিকল্পনা আছে সৈয়দপুরের খুদে এই নারী উদ্যোক্তার। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা। এরই ফলে আজ খুদে উদ্যোক্তা হিসেবে সৈয়দপুরে মোটামুটি সফল। তবে এই পথ পাড়ি দিতে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে। এর পরও দমে যাননি। সব সময় ধৈর্য, সাহস ও মনোবল চাঙ্গা রেখে নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন। পাছে লোকের কটু কথা ঝেরে ফেলে উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্যের দিকে ছুটে চলেছেন।