ঝিনাইদহে পার্ক ও রিসোর্ট বন্ধ থাকায় ব্যবসায় ধস

বেকার কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপন

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

করোনার কারণে ঝিনাইদহ জেলায় চারটি বেসরকারি পার্ক ও রিসোর্টগুলো পাঁচ মাস বন্ধ থাকায় বিনোদন ব্যবসায়ে ধস নেমেছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৩০০ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঝিনাইদহ শহরের উপকণ্ঠে চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে বড় পরিসরে জোহান ড্রিমভ্যালী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়। এটি একটি বিনোদন কেন্দ্র। ঝিনাইদহ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে মানুষ পিকনিক করতে এখানে আসত। এটির রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা আছে। কুষ্টিয়া সড়কের পাশে আছে তামান্না পার্ক। এটিও একটি বিনোদন কেন্দ্র। সারা বছর ধরে মানুষ পিকনিক করতে আসত। কালীগঞ্জের পাশে নলডাঙ্গায় রাজবাড়ি রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে, কোটচাঁদপুরেও একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষ বিনোদনমুখী হওয়ায় ভালো ব্যবসা চলছিল। এসব বিনোদন কেন্দ্রকে ঘিরে অনেকে হোটেলসহ নানা ব্যবসা করে জীবিকানির্বাহ করে আসছিল। কিন্তু করোনার কারণে এখন সবই বন্ধ। এসব পেশার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন, কবে চালু হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

জোহান ডিমভ্যালী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ম্যানেজার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে এখানে প্রায় দেড়শ মানুষ কাজ করত। পাঁচ মাস তারা বেকার। মানবেতর জীবনযাপন করছে। মালিক মাঝেমধ্যে কিছু সাহায্য করেন। তা দিয়ে চলে না।

মিলন হোসেন নামে পার্কের এক কর্মচারী বলেন, তারা কোনো ত্রাণসহায়তা পাননি। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। জোহান ড্রিমভ্যালী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের দেড়শ স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারী পাঁচ মাস যাবত্ বেকার। তিনি সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করছেন। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, তারা আবেদন করলে বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে।