দেশ পরিচালনায় শিক্ষিত-দক্ষ-জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন ----------তাসমিমা হোসেন

জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইত্তেফাক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, দক্ষ, ভদ্র, সত্, নির্ভীক-সহনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনীতি করা উচিত। দেশ পরিচালনায় এ ধরনের মানুষ অংশ নিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে জনগণের স্বার্থ ও উন্নয়ন তথা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। আগামী ২০২৩ সালের শেষে যে সংসদ নির্বাচন দেশে অনুষ্ঠিত হবে সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা একটি সুসংহত সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সচেতন জনগোষ্ঠী গড়তে এখন থেকেই কাজ করে যেতে চাই।

তিনি গতকাল রবিবার রাতে ভাণ্ডারিয়ায় তার বাসভবন ‘তাসমিমা ভিলায়’ উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি এবং অঙ্গসংগঠনের নতুন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন,  ‘১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমি প্রথম ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীর মানুষের মধ্যে তাদের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেই। ১৯৯৬ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, তার হয়ে এ এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথি হয়েছি। ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখতে চাই। দেশের মানুষের মতো আমরা বরাবর বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করি, তার আদর্শের অনুসারী হয়ে কাজ করি। বঙ্গবন্ধু কে, মানিক মিয়া কে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কে—তা যেমন দেশের মানুষ জানে, তেমনি এলাকার মানুষের কাছেও তাদের অবদান প্রাতঃস্মরণীয়। সৌদি আরবে লেবারের কাজ করা, ব্যাংকের শূন্য অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, অথচ প্রচুর পরিমাণ কালো টাকার মালিক অশিক্ষিত কোনো ব্যক্তি ভাণ্ডারিয়ার মতো উন্নত, ভদ্র, সভ্য, সম্ভ্রান্ত সমাজের নেতৃত্ব দিতে পারে না। সমাজ এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের মেনে নেয় না।’

তাসমিমা হোসেন আরো বলেন, করোনাজনিত কারণে দেশে এখন একটি অসম সন্ধিক্ষণ চলছে। রাজনীতিতেও যার প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক নয়। রাজনীতিতে কেউ আসে দেশের ক্ষতি করতে আবার কেউ আসে দেশ রক্ষা করতে। স্বাধীনতার সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। হোন্ডা-গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে দেশ চালানো গেলে জ্ঞানী লোকের প্রয়োজন হতো না। যারা বর্তমানে ভাণ্ডারিয়ায় বসে নেতাদের সম্পর্কে উলটা-পালটা কথা বলে তাদের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানতে হবে। ভাণ্ডারিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপিকে পুনর্বিন্যাস-পুনর্গঠিত করে নেতাকর্মীদের যুগোপযোগী, রাজনৈতিক-সমাজ ও উন্নয়নবান্ধব করে গড়ে তোলাই আমাদের এ মুহূর্তের দায়িত্ব। এ পুনর্গঠনে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য সত্, দক্ষ তথা শিক্ষিত নেতাকর্মী নিয়ে ভবিষ্যত্ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।       

জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলা আহ্বায়ক ও ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনির সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ইকড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেস, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ইকড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন বাবু তালুকদার, যুগ্ম-আহ্বায়ক হায়দার আলী হাওলাদার, যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহ আলম হাওলাদার, যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. খোকন মৃধা, পৌর জেপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন স্বপন মিয়া, সদস্য সচিব আহসানুল কিবরিয়া ফরিদ মল্লিক, পৌর কাউন্সিলর ও জেপি নেতা মানিক হাওলাদার, মহিলা পার্টির উপজেলা সভানেত্রী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, যুব সংহতির উপজেলা আহ্বায়ক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ সরদার, পৌর যুব সংহতির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন সরদার দুলাল, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক মনির সরদার, শ্রমিক পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক শাহজাহান সরদার, ছাত্রসমাজের উপজেলা আহ্বায়ক জহির উদ্দিন অন্তু, পৌর আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রাজু, সদস্য সচিব মাহবুব শরীফ শুভ, ভাণ্ডারিয়া কলেজ আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান শরীফ প্রমুখ।