চট্টগ্রামে ৩৮ ডায়াগনস্টিকের পরিবেশ ছাড়পত্র বাতিল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ অনুযায়ী ৩৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিবেশ ছাড়পত্র গতকাল রবিবার বাতিল করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর নগরীর নামি-দামি আটটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও চেয়েছে। তাদের আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নুরী জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৮৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল ক্লিনিক রয়েছে। তার মধ্যে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সাল থেকে লাইসেন্স নবায়ন না করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে।

পরিবেশ ছাড়পত্র বাতিল হওয়া ডায়াগনস্টিকসমূহ হলো— হালিশহরের অর্গান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চাঁন্দগাওয়ে রয়েল প্যাথলজি সেন্টার, মেডিক্যাল স্কয়ার, খুলশির সিইআইটিসি লেন্স প্রসেসিং ইউনিট, হামজারবাগের সিটি লাইফ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার সানওয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের দুটি শাখা, মনসুরাবাদ, জামালখান ও দেওয়ানহাটের সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের তিনটি শাখা, পাঁচলাইশ এলাকার দি হেলথ হোম প্রা. লি., চকবাজারের উডল্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাঁচলাইশ এলাকার চিটাগং কেমোথেরাপি সেল সেন্টার, উত্তর আগ্রাবাদের নিষ্কৃতি ক্লিনিক, আকবরশাহ চাঁন্দগাও ইমেজ সূর্যের হাসি ক্লিনিক, আন্দরকিল্লা এলাকার মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নতুন বাজার এলাকার কিউম্যাক্স হেলথ কেয়ার, হালিশহরের মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বন্দর ফ্রি বোর্ড এলাকার মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, বাকলিয়া ও কুলগাঁও অক্সিজেন মোড়ের ব্র্যাক যক্ষ্মা নির্ণয় কেন্দ্র, পতেঙ্গার কাঠঘর ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, হালিশহরের এমএন ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সেন্টার, ঈদগা এলাকার মেডিসেভ প্যাথলজি ল্যাব, জামালখানের ল্যাব ওয়ান হেলথ সার্ভিসেস, সদরঘাটের পালস ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি অ্যান্ড ডায়াগনসিস, কোতোয়ালি থানা এলাকার দি মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি, আগ্রাবাদের মেডিসিন মেডিক্যাল সার্ভিসেস এবং প্যানাসিয়া ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি প্রপার্টিজ লিমিটেড, মেহেদীবাগের হরমোন ও ডিএনএ সেন্টার, কে.বি ফজলুল কাদের রোডের কর্ণফুলী ব্লাড অ্যান্ড থ্যালাসেমিয়া সেন্টার, খুলশীর চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশন, নাসিরাবাদের বায়েজিদ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্রবর্তক মোড়ের বাংলাদেশ আই হসপিটাল লি., কালুরঘাটের হেলথ লাইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেডি মেক্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

চট্টগ্রামে বেসরকারি স্থাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন যাবত্ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহেলার সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়ম করেই যাচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, সরকারি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে বেসরকারিভাবে ৩৪৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ১৩৭টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করার জন্য দুটি কমিটি রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা দেখা। কিন্তু বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে এসব কমিটির কোনো তত্পরতা দেখা যায় না। আগে র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হতো। এখন তাও হচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেকেই বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা আনতে হলে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে। এখনো ১৯৮২ সালে প্রণীত অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। অথচ এর মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে।

কিছু দিন আগে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, পরিদর্শনকালে নানা অনিয়ম আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অনিয়ম বন্ধে তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমাধারী টেকনিশিয়ান নেই, বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। কর্মরত চিকিত্সক ও স্টাফদের নিয়োগপত্র নেই। বাইরে সেবা চার্জের তালিকা টাঙানো হয়নি। ’

অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত চিকিত্সার নামে চরম নৈরাজ্য চলছে। আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউতে চিকিত্সার নামে গলাকাটা অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ও এইচডিইউতে যেখানে দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৈনিক ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।