বিশ্ব মানবতার অস্তিত্বের জন্য চীনা কমিউনিস্ট পার্টি হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির মানবাধিকার কর্মী এবং স্কলার টেং বিয়াও।
তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে শি জিনপিং চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়ে উঠেছে।’
টেং আরও যোগ করেন, শি জিনপিং ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা করছেন। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে কমপক্ষে তিন শতাধিক আইনজীবীকে চীনে আটক ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
‘চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি: মানবতার প্রতি অস্তিত্বের হুমকি’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মানবাধিকার কর্মী টেং বিয়াও বলেন, ‘চীনে আমাকে অপহরণ এবং নির্যাতন করা হয়েছে। শি জিনপিংয়ের সরকার ইন্টারনেট, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুশীল সমাজের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।’
উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে খারাপ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে রয়েছে জিনজিয়াং। সেখানে কমপক্ষে এক থেকে দুই মিলিয়ন উইঘুর মুসলিম এবং অন্যান্য তুর্কি মুসলমানকে আটক করা হয়।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ইতিহাস তুলে ধরে টেং বিয়াও বলেন, ‘১৯৪৯ সালে সিসিপি সর্বগ্রাসী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। তারা কুওমিনতাং জনগণকে হত্যা এবং ভূমি মালিকদের জবাই করতে শুরু করে। ফলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম থেকেই মানবিক বিপর্যয় শুরু হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮৯ সালে, তিয়ানানমেন স্কয়ারে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গণহত্যা করে সিসিপি। এছাড়া ১৯৯৯ সালে কারাগারে কয়েক মিলিয়ন ফালুন গং এবং হাজার হাজার মানুষকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিলো।’
এর আগে চীনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে স্কলার টেং বিয়াও বলেছিলেন, ‘চীন বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী সম্প্রচার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর চীনা মিডিয়া আসলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ হয়ে গুপ্তচর এবং প্রচারকের কাজ করছে।’
গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তার জন্য চীনের তৈরি একটি আপসের কথা বলেন টেং বিয়াও। যার নাম টিকটক। তিনি বলেন, ‘চীনের এমন কয়েকটি আপস গোপনীয়তার নীতি লঙ্ঘন করছে।’
ইত্তেফাক/জেডএইচ