স্পোর্টস ডেস্ক
বায়ার্ন মিউনিখের শেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর কেটে গিয়েছিল সাতটি বছর। এরপর ফাইনালে ওঠাই রীতিমতো অধরা হয়ে উঠেছিল জার্মানির সবচেয়ে বিখ্যাত ক্লাবটির জন্য। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে গত রবিবার রাতে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপাটাও উঁচিয়ে ধরল কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
দুই দলেই ছিল পারফর্মারের মেলা। এক পাশে যেমন নেইমার, কিলিয়ান এমবাপে, আনহেল ডি মারিয়ারা; অন্যপাশে ছিলেন আগুনে ফর্মের রবার্ট লেভান্ডোভস্কি, সের্জ গেনাব্রি, থমাস মুলাররা। তাতে প্রথমার্ধের লড়াইটাও হলো সমানে সমানে। তবে দুই গোলরক্ষক কেইলর নাভাস আর ম্যানুয়েল নয়্যারের বীরত্বে স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন এলো না।
করোনাকবলিত এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে অবশেষে দৃশ্যপট বদলাল ৫৯ মিনিটে, জশুয়া কিমিখের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে যখন গোল করলেন কিংসলে কোম্যান। এরপর পিএসজি ক্রমে ফিকে হতে শুরু করে, অন্যদিকে আরো দাপুটে হয়ে ওঠে বায়ার্ন।
অবশ্য পর্তুগালের লিসবনে ফাইনালের চিত্রটা এমন না-ও হতে পারত। প্রথমার্ধে পিএসজি কমপক্ষে তিনটি সুযোগ পেয়েছিল। বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের দারুণ সব দুর্দান্তপনায় লড়াইয়ে টিকে থাকে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অবশ্য বায়ার্নের এই সাফল্যের কৃতিত্ব কোনো একক খেলোয়াড়কে দিতে নারাজ। জানালেন দলীয় নৈপুণ্যেই এসেছে এই ট্রফি। বললেন, ‘অনেক লোকই এই জয়ের জন্য প্রশংসার দাবিদার। আপনি দেখে থাকবেন হয়তো, গত শীত থেকে এই দলে আমরা কেমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম, যা একজন কোচের পরম পাওয়া।’ এই জয়ের ফলে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর আবারও মৌসুমের বড় তিনটি শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বায়ার্ন, ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে। এমন অর্জনের পর উদ্যাপনে কোনো সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন না কোচ ফ্লিক। জার্মান কোচের ভাষ্য, ‘পার্টি কবে, কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছি না আমি। যখন আপনি কোনো কিছু জেতেন, তখন এমন উদ্যাপন যথার্থ। আমাদের উদ্যাপন করতে হবে, আমরা জানি না কখন এটা শেষ হবে।’
অথচ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে যখন দায়িত্ব নিচ্ছিলেন, সে সময় বায়ার্ন ছিল বুন্ডেসলিগার চতুর্থ স্থানে। এর আগে গেলো মৌসুমেই সেই সময়কার কোচ নিকো কোভাচের বায়ার্ন বিদায় নিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে, লিভারপুলের কাছে হেরে।
সেই অবস্থান থেকে দলকে ট্রেবল জিতিয়ে ফ্লিকের প্রতিক্রিয়া, ‘নভেম্ভরে আমি পড়ছিলাম, কেউই এখন আর বায়ার্নকে ভয় পায় না, এমনকি সম্মানটাও কেউ করে না। এটাই দলের বাজে সময়টাকে তুলে ধরে। এরপর যে পরিবর্তনটা হয়েছে দলের, তা অবিশ্বাস্য।’
মাস ছয়েক শিরোপা শূন্যতার শঙ্কায় ভোগা সেই দলই এখন ইউরোপসেরা।
যত ইতিহাস বায়ার্নের
১. চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দল ফাইনালের পথে সবকটি ম্যাচই জিতল। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচ খেলে বায়ার্নের হার কিংবা ড্র নেই এক ম্যাচেও।
২. দুইটি ভিন্ন মৌসুমে (২০১২-১৩, ২০১৯-২০) তিনটি বড় শিরোপাই জেতা দ্বিতীয় দল বায়ার্ন মিউনিখ। এর আগে ২০০৮-০৯ আর ২০১৪-১৫ মৌসুমে জিতে প্রথম দল হিসেবে দুটো ট্রেবল জয়ে কৃতিত্ব দেখায় বার্সা।
৪. চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যুগে চতুর্থ জার্মান কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেন হ্যান্সি ফ্লিক। আগের তিন জন ছিলেন ওটমার হিটজফেল্ড (১৯৯৭, ২০০১), য়ুপ হেইঙ্কেস (১৯৯৮, ২০১৩) ও য়ুর্গেন ক্লপ (২০১৯)।
৫. চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফাইনালে গোল করা পঞ্চম ফরাসি খেলোয়াড় বনে গিয়েছেন কিংসলে কোম্যান। যোগ দিয়েছেন করিম বেনজেমা (২০১৯), জিনেদিন জিদান (২০০২), মার্সেল দেসাই (১৯৯৪) আর ব্যাসিল বলিদের (১৯৯৩) সঙ্গে।
৬. বায়ার্নের জেতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সংখ্যা। রবিবারের শিরোপাটি জিতে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের তালিকায় লিভারপুলের সঙ্গে যুগ্মভাবে তিনে উঠে এসেছে দলটি। সামনে আছে এসি মিলান (৭) আর রিয়াল মাদ্রিদ (১৩)।
৩৫ চলতি মৌসুমে বায়ার্নের গোল ব্যবধান ৩৫, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটিই সর্বোচ্চ গোল ব্যবধানের কীর্তি।
৫০০ কোম্যানের গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে নিজেদের ৫০০তম গোলটি পায় বায়ার্ন। শুধু রিয়াল মাদ্রিদ (৫৬৭) আর বার্সেলোনারই (৫১৭) এর চেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড আছে।