চাকরি জাতীয়করণ, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও বেতন বৈষম্য নিরসন—এই তিন দফা দাবিতে গতকাল সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-প্রহরীরা। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করে কর্মসূচি শেষ করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৭ হাজার দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের দিনে দাপ্তরিক কাজ ও রাতে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অর্থাত্ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। এছাড়া কেউ বেতন বেশি পাচ্ছেন আবার কেউ কম পাচ্ছেন। এ বৈষম্যও আমরা নিরসন চাই।
মামুন নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, আমাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই, নানাবিধ সমস্যার কারণে এবং চাকরি জাতীয়করণের জন্য ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করি। চলতি বছর ৩০ জুলাই আদালতের রায় আমাদের পক্ষে আসলেও এ বিষয়ে অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার দপ্তরি-কাম-প্রহরী রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। তারা দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে অধিদপ্তরের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে দুপুরের পর স্বাধীনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরি সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মামুন সরদারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অধিদপ্তরের পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সেখানে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ডিজির সঙ্গে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক হলে বেলা ৪টার দিকে দপ্তরিরা আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেন। মামুন সরদার সাংবাদিকদের জানান, আমাদের মূল দাবি চাকরি জাতীয়করণ। ৭ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসলে আমরা অধিদপ্তরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব।