কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় তার গৃহশিক্ষককে আসামি করে থানায় মামলা রুজু হয়েছে।
আত্মহননকারী সুমাইয়া আক্তারের বাবা মো. শামীম মিয়া রবিবার বিকালে পাকুন্দিয়া থানায় করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের পাড়া বালিয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে রাসেল আহমেদকে একমাত্র আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন। উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের বাসিন্দা এবং কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া গত শনিবার ভোরে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সুমাইয়া উপজেলার কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। সেই সময় তিনি কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক রাসেল আহমেদের কাছে প্রাইভেট পড়তেন। সে সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শিক্ষক রাসেল আহমেদ। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কও স্থাপন করে ঐ শিক্ষক।
২০১৯ সালে রাসেল আহমেদ ঢাকার একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে সুমাইয়ার সঙ্গে অন্যরকম আচরণ শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট রাসেল অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এ ঘটনার পর রাসেলের প্রতারণার শিকার সুমাইয়া ক্ষোভে-দুঃখে, অভিমানে শনিবার ভোরে আত্মহননের পথ বেছে নেন। আত্মহত্যার আগে সুমাইয়া নিজের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে শিক্ষক রাসেলের ছবি সংযুক্ত করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর ধরে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করে।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ঐ শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্থানীয় পুলেরঘাট বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এলাকাবাসী।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি (তদন্ত) শ্যামল মিয়া জানান, অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।