প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রয়াত আইভি রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেছেন, আইভি রহমান দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রতিটি সভা-সমাবেশে সাধারণ কর্মীদের সাথেই বসতেন। তার কোনো অহমিকা ছিল না। এমন একজন চমত্কার নিরহংকারী সুন্দর মানুষের এরকম বীভত্স মৃত্যুটা সত্যি সহ্য করা যায় না। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
এদিকে করোনা মহামারির কারণে আটকে থাকা ডিগ্রি ও মাস্টার্স পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো নিতে পারবে কওমি মাদ্রাসা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে জেনারেল কওমি মাদ্রাসা খুলবে না। ওই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ না কমায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সময় এখনো হয়নি। তবে এইচএসসি ও জেএসসি এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বিষয়টি কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনা করছে। তারা দেখে দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত দেবে। তবে স্কুল, কলেজ এখনো খোলার মতো সময় আসছে বলে মনে হচ্ছে না।
সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আইভী রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় মারা যাওয়া ২২ জন নেতাকর্মীর কথা স্মরণ করেন। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং পরিবার পরিজনের প্রতি সহমর্মিতা জানান। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বর্বরতম ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান গুরুতর আহত হন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চারদিন পর ২৪ আগস্ট তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ব্যাংকার বহি সাক্ষ্য আইন, ২০২০ খসড়া নীতিগত অনুমোদন ও ‘দ্য বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন অর্ডার, ১৯৭৩’ সংশোধনক্রমে প্রণীত ‘দ্য বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন অর্ডার’ (সংশোধন) এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। ‘দ্য বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (সংশোধন) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।