অণুগল্প

সমান-সমান

তাপস কুমার দত্ত

 

সাধুবাবা গাঁজার কল্কিতে জোরে দম টেনে বললেন, কী চাস?

—প্রমোশন! অফিসে প্রমোশন চাই বাবা।

সুধীর ধীরে-সুস্থে করজোড়ে বলল। প্রথম জীবনে সে ট্যাক্সি চালাত। এখন বড় অফিসার।

—প্রমোশন! সেটা আবার কী জিনিস?

 —এই ধরো প্রমোশনে মাইনে বাড়বে, সম্মান বাড়বে।

—কিন্তু যা পাবি সব সমান-সমান হবে।

—প্রমোশন পাব তাহলে? বাবা!

—কিন্তু তুই তো যোগ্য নস।

—তুমি চাইলেই যোগ্য হয়ে যাব বাবা।

—না, হবি না। সব কিছু সমান-সমান হবে কিন্তু।

—বুঝলাম না বাবা।

—বুঝবি পরে। ঠিক আছে, যা চাস, পাবি।

সুধীর বাবার পা ধরে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল আনন্দে।

মাসখানেকের মধ্যে সিনিয়র দুজনকে টপকে প্রমোশন পেয়ে গেল সুধীর। বেতন হয়ে গেল দ্বিগুণ। বছর না গড়াতেই সুধীরের কঠিন রোগ ধরা পড়ল। ছোট মেয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে পালিয়ে গেল।

সাধুবাবাকে গিয়ে আবার ধরল সুধীর, বাবা অসুখ সারিয়ে দাও। সম্মান ফিরিয়ে দাও।

সাধুবাবা চোখ না খুলে বললেন, নিজের অতীত ভুলে গেলি তুই? আর অসুখ সারানোর টাকা তো আগেই দিয়েছি তোকে।

অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য