বন্যায় ভেসে গেছে কলাচাষিদের স্বপ্ন

চলতি বন্যার কারণে ঘিওরের কৃষিপণ্যনির্ভর চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পানিতে দীর্ঘদিন ডুবে থাকায় কলাগাছ মরে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন উপজেলার সাত ইউনিয়নের কলাচাষিরা। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কলাচাষিদের স্বপ্ন। ঘিওর সদর ইউনিয়নের মাইলাগী এলাকার চাষি রাসেল মিয়ার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব গাছই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোড়া পচে দুমড়েমুচড়ে পড়ে রয়েছে কলাগাছ। ফলন্ত এসব গাছের কলা আর মাসখানেক পরই পরিপক্ব হওয়ার কথা। সারা বছর খরচ করার পর ফসল ঘরে তোলার সময় একইভাবে এলাকার অন্য কলাচাষিরাও সর্বস্বান্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে বিভিন্ন জাতের কলাচাষ হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৯ হেক্টর জমিতে কলা আবাদ হয়েছিল। বর্ষার পানি এসে কলাগাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

চাষি রাসেল জানান, তিনি নিজের এবং বর্গা নেওয়াসহ মোট তিন একর জমিতে রঙিন সাগরকলা আবাদ করেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। আর এজন্য তিনি ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। চারা রোপণ থেকে কলা বিক্রির উপযোগী করতে প্রায় আট-নয় মাস লেগে যায়। আগাম বর্ষার পানি এসে তার জমির সব কলাগাছ মরে গেছে। এতে তার প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন ব্যাংক ঋণের সুদ কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত। তা ছাড়া সংসারই বা কীভাবে চলবে সেই চিন্তায় দিশেহারা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপজেলা উপসহকারী কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ১০০ কৃষকের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সবজি বীজ বিতরণ করা হবে। এছাড়া তালিকা আসার পর অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে। যে পরিমাণ বরাদ্দ পাওয়া যায় সে অনুযায়ী সরিষা, ভুট্টার বীজ ও সার বিতরণ করা হবে।