অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে

ইএফডি চালু উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে

এনবিআরের চেয়ারম্যান 

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় এর প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, এর ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য কোনো সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এ ধরনের প্রশ্ন তোলে, সেটি হবে অন্যায়, অনুচিত। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন তুলতে পারে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা এ ধরনের প্রশ্ন তুলবে না। গতকাল মঙ্গলবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় হিসাবযন্ত্র (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি) স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষা (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অবশ্য বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও করদাতার আয়কর রিটার্নে তেমন সাড়া পড়েনি (অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হলে এনবিআর ১০ শতাংশ জরিমানার আয়কর পাওয়ার কথা) জানিয়ে তিনি বলেন, আয়কর রিটার্ন এলে বোঝা যাবে কী পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, সরকার আইন করে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করতে বলেছেন। সুতরাং কেউ প্রশ্ন করলে আইনের আশ্রয় (বিনিয়োগকারী) নিতে পারবেন।

ইএফডি স্থাপনকে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন উল্লেখ করে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাটের অনিয়ম বন্ধ করতেই ইএফডি চালু করা হচ্ছে। এর ফলে কথিত হয়রানি দূর হবে এবং রাজস্ব আহরণের ব্যয় ও ব্যাবসায়িক খরচ কমবে। কর পরিহারের সুযোগ থাকবে না। রাজস্ব আহরণেও গতি আসবে।

এ সময় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ঢাকায় ৮০টি ও চট্টগ্রামে ২০টিসহ মোট ১০০ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে ইএফডি মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ১ হাজার এবং আগামী জুনের মধ্যে ১ লাখ প্রতিষ্ঠানে এই মেশিন বসানো হবে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপিত ইএফডি মেশিন এনবিআরে রক্ষিত নির্দিষ্ট সার্ভারের সঙ্গে (ইএফডিএমএস) যুক্ত থাকবে। কোনো বিক্রয়ের হিসাব ইএফডিতে এলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরের রক্ষিথ ইএফডিএমএসে চলে আসবে এবং ঐ পণ্য বা সেবার ভ্যাট হিসাবভুক্ত হবে। ফলে ভ্যাট ফাঁকির সুযোগ থাকবে না।