নিখোঁজ ভাইবোনের লাশ মিলল খাটের নিচে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে স্কুলশিক্ষার্থী দুই ভাইবোনকে হত্যার ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি, আর কোনো মামলাও হয়নি। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বসতঘরের দুইটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বিকাল থেকেই নিখোঁজ ছিল দুই ভাইবোন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের মামা বাদল মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তিনি।

নিহতরা হলো :উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের প্রবাসী কামাল উদ্দিনের কন্যা শিফা আক্তার (১৪) ও  ছেলে কামরুল হাসান (১০)। কামাল উদ্দিন পাঁচ মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মরদেহ দুইটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, বাদলকে আটক করা গেলে হত্যার প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। ঠিক কী কারণে ভাইবোনকে একসঙ্গে হত্যা করা হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারছে না পুলিশ। নিহতদের শরীরে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার আগে স্কুলছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করা               হয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে নারীঘটিত বা সম্পত্তির কোনো বিষয় রয়েছে কিনা, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

নিহত শিফা বাঞ্ছারামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ও কামরুল সলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সোমবার বিকালে কামরুল নিখোঁজ হয় প্রথমে। তাকে খুঁজতে শিফাকে বাড়িতে রেখে বাইরে যান মা হাসিনা আক্তার। পরে ঘরে এসে দেখেন মেয়ে শিফাও নেই। পরে নিখোঁজ দুই জনের খোঁজ পেতে এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং রাত সাড়ে ৮ টায় থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান তাদের বাবা-মাসহ স্বজনরা। এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে নিজ ঘরের খাটের নিচে ছেলেমেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান হাসিনা আক্তার ।