বায়োলজিস্টদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি

এই করোনাকালে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনেক অব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে চার হাজার চিকিত্সক এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে। তবু সমস্যার সমাধান দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকারের আরো দুই  হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। দুঃখের বিষয় হলো, চিকিত্সার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য গ্রাজুয়েট যেমন বায়োটেকনোলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট কিংবা ফার্মাসিস্টদের নিয়োগের ব্যাপারে কিছু শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু সংক্রামক রোগের জীবাণু শনাক্তকরণে, রোগের কারণ নির্ণয়ে, ভ্যাকসিন তৈরিতে নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কারে এদের অবদান অনস্বীকার্য।

বর্তমানে ৮০টিরও বেশি ল্যাবে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় বায়োটেকনোলজিস্টসহ উল্লিখিত গ্রাজুয়েটগণ বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তবু এদের নিয়োগের ব্যাপারে বা পারিশ্রমিক প্রদানের ব্যাপারে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এই গ্রাজুয়েটরা দেশে চাকরি না পেয়ে অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। তারা বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ল্যাবে গবেষণা করে যখন বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন কিংবা ওষধ আবিষ্কার করে, তখন আমরা বাংলাদেশি হিসেবে শুধু গর্ববোধ করি।

আমাদের দেশে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ সমস্ত বিষয়ে ভর্তি হয়। জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে গ্রাজুয়েট বানিয়ে তাদের আমরা কাজে লাগাতে পারছি না! ১৯৯৩ সালের আগে তাদের সরকারি চাকরিতে ঢোকার সুযোগ ছিল। এরপর এক অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায়, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে চিকিত্সকদের সঙ্গে বায়োটেকনোলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্ট গ্রাজুয়েটদেরও নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। দক্ষ ব্যক্তিকে যথাযথ জায়গায় নিয়োগ দিলে কাজে গতি আসবে এবং বর্তমান অব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয়হীনতা দূর হবে। এজন্য পদ সৃষ্টিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিএসসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান

ডিন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়